কলকাতা – জঙ্গি বা সাইবার অপরাধীদের হামলায় মুহূর্তের মধ্যে বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্ক, ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সরকারি ওয়েবসাইটও। অতীতে একাধিক সরকারি ওয়েবসাইটে সাইবার হামলার চেষ্টা হয়েছে। এবার সেই সাইবার হামলা এবং অনলাইন অপরাধ ঠেকাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর আরও বেশি গুরুত্ব দিতে চলেছে কলকাতা পুলিশ। সাইবার অপরাধ দমনে লালবাজারে তৈরি হতে চলেছে বিশেষ ‘এআই টাস্ক ফোর্স’। এই টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে সাইবার হামলার আগাম সংকেত চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে অপরাধীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
লালবাজারের এক কর্তার দাবি, সাইবার অপরাধীদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রেও এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তাই সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এআই টাস্ক ফোর্সে কতজন আধিকারিক থাকবেন এবং কীভাবে এই বিশেষ দল কাজ করবে, তা নিয়ে লালবাজারের কর্তারা আলোচনা করছেন।
গোয়েন্দা পুলিশের মতে, সাইবার হামলার আগে এমন অনেক ছোট ছোট সংকেত পাওয়া যায়, যা সাধারণভাবে সহজে নজরে আসে না। কিন্তু সেই সংকেতগুলি সময়মতো শনাক্ত করা গেলে বড়সড় সাইবার হামলা অনেকটাই আগেই প্রতিহত করা সম্ভব। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ধরনের সন্দেহজনক সংকেত চিহ্নিত করার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।
শুধু হামলার আগাম সংকেত শনাক্ত করাই নয়, অচেনা কোনও কম্পিউটার বা ডিভাইস ব্যবহার করে সাইবার অপরাধীরা ম্যালওয়্যার ঢোকানোর চেষ্টা করলেও তা চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে এআইকে কাজে লাগানো হবে। কোনও হ্যাকার বা ব্যক্তি সাইবার হুমকি দিলে তাঁর আইপি অ্যাড্রেস এবং অনলাইন কার্যকলাপের ধরন বা আচরণের প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করেও সন্দেহজনক ব্যক্তিকে শনাক্ত করার চেষ্টা করবে এই প্রযুক্তি।
ফিশিং এবং স্প্যাম হামলা ঠেকাতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সাইবার অপরাধীরা হামলার আগে যে ই-মেল, লিঙ্ক, অ্যাটাচমেন্ট বা মেসেজ পাঠায়, সেগুলির মধ্যে সন্দেহজনক কিছু রয়েছে কি না, তা দ্রুত বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য বিপজ্জনক বার্তা আটকানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। একইসঙ্গে কলকাতা পুলিশের সামগ্রিক সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও এআই টাস্ক ফোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ যত বাড়ছে, তার মোকাবিলাতেও প্রযুক্তিকেই হাতিয়ার করতে চাইছে লালবাজার।




















