আন্তর্জতিক – নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই বিপর্যয়ে ৯৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৪ হাজার মানুষের কোনও খোঁজ মিলছে না। নিখোঁজদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী ও শ্রমিকরাও রয়েছেন। কাদামাটি, ধ্বংসস্তূপ এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বারবার বাধার মুখে পড়ছে উদ্ধারকাজ।
গত ২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে বরফ ও পাথরের ধসের পর ভয়াবহ জলস্রোত নেমে আসে। সেই জলস্রোত কোশী ও ত্রিশূলী নদী সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। উত্তর ও মধ্য নেপালের একাধিক শহর ও গ্রাম প্লাবিত হয়ে যায়। ভেসে যায় বাড়িঘর, যানবাহন, রাস্তা ও সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও।
সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করা। বিভিন্ন প্রকল্প মিলিয়ে ৯০০-র বেশি কর্মী নিখোঁজ বা আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বেশ কয়েকটি সুড়ঙ্গ কাদা ও ধ্বংসাবশেষে কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকারীদের ভিতরে পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ারও চেষ্টা চলছে।
উদ্ধারকারীদের আরও একটি বড় সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে মৃতদেহ শনাক্ত করতে গিয়ে। বন্যার প্রবল স্রোতে বহু দেহ মূল বিপর্যয়স্থল থেকে অনেক দূরে ভেসে গিয়েছে। ফলে নিখোঁজ পরিজনদের খোঁজে হাসপাতাল এবং বিভিন্ন জায়গায় ছুটছেন পরিবারের সদস্যরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধারকাজ জোরদার করা হলেও বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে প্রতিকূল পরিবেশ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।



















