দেশ – ভারতীয় রাজনীতিতে পেঁয়াজের গুরুত্ব বরাবরই আলাদা। দাম বাড়লেই তার আঁচ পৌঁছে যায় সাধারণ মানুষের রান্নাঘর থেকে সংসদ পর্যন্ত। ফের একবার সেই পেঁয়াজের ঝাঁঝে চোখে জল পড়ার জোগাড়। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে গুজরাতে কেজিপ্রতি পেঁয়াজের দাম ৩৫-৪০ টাকা থেকে বেড়ে পৌঁছেছে ৬০-৭০ টাকায়। দেশের অন্যান্য প্রান্তেও দেখা যাচ্ছে একই ছবি। কলকাতায় বর্তমানে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ৭০ টাকায়।
২৪ অগস্ট পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে পেঁয়াজের গড় খুচরো দাম বেড়েছে প্রায় ৫৯ শতাংশ। পাইকারি বাজারেও দাম বৃদ্ধির হার প্রায় ৬৮ শতাংশ। ফলে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির সরাসরি চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাজার খরচে।
তবে এবারের পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় চমক, পেঁয়াজের উৎপাদনে বড় কোনও ধস নামেনি। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৩ লক্ষ টন পেঁয়াজ উৎপাদনের অনুমান করা হয়েছে, যা আগের বছরের উৎপাদনের প্রায় সমান। তাহলে উৎপাদন মোটামুটি স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও বাজারে কেন এতটা আগুন? এর অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে সরকারি বাফার স্টক বা জরুরি মজুতের ঘাটতি।
দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রাইস স্টেবিলাইজেশন ফান্ডের আওতায় ২ লক্ষ টন রবি পেঁয়াজ কেনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল কেন্দ্র। কিন্তু নাফেড ও এনসিসিএফ মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ ২০ হাজার টন। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।
এর উপর সরকারি মজুতে থাকা পেঁয়াজের প্রায় ৩০ শতাংশ ইতিমধ্যেই পচে গিয়েছে অথবা অঙ্কুর বেরিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সাধারণত বাফার স্টকে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত পেঁয়াজ নষ্ট হওয়াকে স্বাভাবিক ক্ষতি হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু এ বছর সেই ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হওয়ায় বাজারে সরবরাহের উপরও তার প্রভাব পড়েছে। উৎপাদন স্বাভাবিক থাকার পরেও সরকারি মজুতের ঘাটতি এবং সংরক্ষণজনিত ক্ষতির জেরেই পেঁয়াজের দামে এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বলে মনে করা হচ্ছে।



















