দক্ষিন চব্বিশ পরগনা – দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের বাখরাহাটে পুলিশ হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃতের নাম পালান রায়। তিনি বাখরাহাটের জয়চণ্ডী গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীনই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। বাখরাহাট ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভের পাশাপাশি বাখরাহাট মোড়ে রাস্তা অবরোধ করেন তাঁরা। এর জেরে ব্যস্ত বাখরাহাট-ঠাকুরপুকুর রোডে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাস্তা তৈরির কাজ সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে পালান রায়ের সঙ্গে বিজয় সিংহ নামে এক ব্যক্তির বচসা হয়েছিল। প্রতিবেশীদের দাবি, সোমবার বিকেলে বাড়ির সামনের রাস্তা তৈরির বিষয়ে খোঁজখবর নিতে পালান স্থানীয় এক বিজেপি নেতার কাছে গিয়েছিলেন। সেখানেই বিজয় সিংহের সঙ্গে তাঁর তর্কাতর্কি শুরু হয়। অভিযোগ, বচসার এক পর্যায়ে পালান বিজয়কে ঘুষি মারেন। এরপর বিজয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পালান রায়কে বাখরাহাট ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।
পরিবারের দাবি, সোমবার দুপুর প্রায় দুটো নাগাদ পালানকে পুলিশ বাখরাহাট ফাঁড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে তাঁকে মারধর ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের। তাঁদের আরও দাবি, পুলিশি হেফাজতে থাকাকালীন পালান অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। এমনকী, বুকে ব্যথা হলেও তাঁর শারীরিক অবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং সময়মতো চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়নি বলেও অভিযোগ।
পরিবারের দাবি, শেষ পর্যন্ত বাখরাহাট ফাঁড়ির মধ্যেই পালান রায়ের মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পুলিশ হেফাজতে ঠিক কীভাবে তাঁর মৃত্যু হল এবং পরিবারের তোলা অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।




















