কলকাতা: মুকুন্দপুরের সংঘর্ষকে ঘিরে মঙ্গলবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পার্টি অফিস দখলের অভিযোগের প্রতিবাদে মমতা তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা পূর্ব যাদবপুর থানার দিকে মিছিল করে গেলে সেখানে উত্তেজনা ছড়ায়। এর মধ্যেই প্রাক্তন বিধায়ক তথা প্রাক্তন IPS আধিকারিক হুমায়ুন কবীরের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে তাঁর রক্তাক্ত মুখের ছবি প্রকাশ্যে আসে। কবীরের দাবি, থানার বাইরে তাঁকে মারধর করা হয় এবং তাঁর চশমা ও পার্স ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় মমতা তৃণমূলের একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে। দলের নেতা-নেত্রীরা পার্টি অফিসে হামলা ও দখলের অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে পূর্ব যাদবপুর থানায় স্মারকলিপি দিতে যাচ্ছিলেন। সেই সময় বিজেপির দাবি, তাদের এক কর্মী মিছিলের ভিডিয়ো করছিলেন এবং তাঁকে ঘিরেই প্রথমে বচসা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অন্যদিকে, মমতা তৃণমূলের নেত্রী উপাসনা চৌধুরী অভিযোগ করেন, মিছিলের মধ্যে মহিলাদের ওড়না ও পোশাক টেনে হামলা করা হয়েছে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। মমতা তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছে, তাদের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন এবং কয়েকজনকে আটক করে পূর্ব যাদবপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের মধ্যে হুমায়ুন কবীর ছাড়াও কয়েকজনের নাম সামনে এসেছে।
হুমায়ুন কবীরের অভিযোগ, তিনি থানার সামনে পুলিশের উপস্থিতিতেই আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তাদের কর্মীকেই প্রথমে আক্রমণ করা হয়েছিল এবং গোটা ঘটনার পিছনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা উচিত। ফলে মুকুন্দপুরের সংঘর্ষে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।




















