সরকারি হাসপাতালে বেড নেই? এবার বেসরকারি হাসপাতালেই মিলবে চিকিৎসা, কলকাতার ৬ মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে হচ্ছে অংশীদারি

সরকারি হাসপাতালে বেড নেই? এবার বেসরকারি হাসপাতালেই মিলবে চিকিৎসা, কলকাতার ৬ মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে হচ্ছে অংশীদারি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



কলকাতা

২০২০-র কোভিড অতিমারির ভয়াবহ অভিজ্ঞতা এখনও অনেকের স্মৃতিতে তাজা। হাসপাতালগুলিতে বেডের তীব্র সংকটের কারণে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে ছুটতে হয়েছিল পরিজনদের। বেড না পেয়ে চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগেই অনেক রোগীর মৃত্যু হয়েছিল। সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যাতে ভবিষ্যতে না হয়, এবার সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে বেসরকারি হাসপাতালের সমন্বয় আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর।

সরকারি হাসপাতালে বেড না থাকার কারণে রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই কলকাতার ছ’টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজকে সংশ্লিষ্ট এলাকার বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ভবনে এই বিষয়ে বৈঠকও হয়। সেখানে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, আরজি কর এবং ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের মেডিক্যাল সুপার তথা ভাইস প্রিন্সিপালরা উপস্থিত ছিলেন।

নতুন ব্যবস্থায় কোনও সরকারি মেডিক্যাল কলেজে প্রয়োজনীয় বেড না থাকলে সংশ্লিষ্ট রোগীকে শুধুমাত্র ‘বেড নেই’ বলে ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। তাঁর শারীরিক অবস্থা ও কী ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন, সেই তথ্য কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ভবনকে জানানো হবে। এরপর রোগীর ‘কেস সামারি’ দেখে নোডাল অফিসার উপযুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে বেডের ব্যবস্থা করবেন।

উদাহরণ হিসেবে, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে বেড না থাকলে রোগীকে ঢাকুরিয়ার মণিপাল হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ক্ষেত্রে সল্টলেকের মণিপাল গ্রুপের হাসপাতালের সঙ্গে এই সমন্বয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এনআরএস মেডিক্যাল কলেজের ক্ষেত্রেও অ্যাপোলো হাসপাতালের সঙ্গে এমন অংশীদারি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে খবর।

অর্থাৎ, সরকারি হাসপাতালে শয্যা না থাকার কারণে চিকিৎসা আটকে থাকবে না—সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমেই কাছাকাছি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীকে নিয়ে পরিবারের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে এই সমন্বয়কে আরও কার্যকর করে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এখন স্বাস্থ্য দফতরের অন্যতম লক্ষ্য। কোভিডের সময়ের মতো বেডের অভাবে কোনও রোগী যাতে চিকিৎসা না পেয়ে সমস্যায় না পড়েন, সেই লক্ষ্যেই এই নতুন ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top