কলকাতা
দুর্গাপুজোকে আরও সর্বজনীন করে তুলতে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগের কথা ঘোষণা করল দুর্গাপুজো সমন্বয় কমিটি। বুধবার প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে কমিটির প্রধান উদ্যোক্তা রুদ্রনীল ঘোষ জানান, পুজোর নামে ভিআইপি পাস বা টিকিটের বিনিময়ে কোনও ধরনের আর্থিক লেনদেন রাখা হবে না। একইসঙ্গে কলকাতা থেকে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার ছোট-বড় সমস্ত পুজোকে সমানভাবে সামনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যেই চালু করা হয়েছে নতুন ওয়েবসাইট এবং পুজোগুলির লাইভ স্ট্রিমিংয়ের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
ভিআইপি পাস বা কার্ডের নামে বিপুল অর্থ লেনদেনের অভিযোগের প্রসঙ্গও উঠে আসে সাংবাদিক বৈঠকে। রুদ্রনীল ঘোষ জানান, এই ধরনের লেনদেন নিয়ে তাঁরা বিভিন্ন সময়ে নানা কথা শুনতে পান। তবে কোনও নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে মন্তব্য না করে তিনি স্পষ্ট করেন, দুর্গাপুজোর নামে তাঁদের সমন্বয় ব্যবস্থায় পাস বা টিকিটের বিনিময়ে কোনও আর্থিক লেনদেন থাকবে না। পুজো উদ্যোক্তাদেরও তাঁর আবেদন, পাস বা টিকিটের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের মধ্যে বিভাজন না করে সকলের জন্য সমানভাবে প্রতিমা দর্শনের সুযোগ তৈরি করা হোক।
রুদ্রনীলের বক্তব্য, ‘ভিআইপি’ শব্দটির অর্থ শুধু নেতা-মন্ত্রী বা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। প্রবীণ নাগরিক, অসুস্থ মানুষ, দরিদ্র ব্যক্তি থেকে শুরু করে চিকিৎসক, নার্স, পুলিশ, দমকলকর্মী এবং সমাজকর্মী—নিজ নিজ ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করা প্রত্যেকেই বিশেষ সম্মানের দাবিদার। তাঁর কথায়, “মায়ের কাছে ছোট-বড় কোনও ভেদাভেদ নেই।” সেই ভাবনা থেকেই সকলের জন্য সমানভাবে পুজো দেখার সুযোগ তৈরি করার বার্তা দেন তিনি।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে বাংলার ছোট-বড় সমস্ত দুর্গাপুজোকে আরও বেশি করে সামনে আনার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। রুদ্রনীলের দাবি, এতদিন পুজোর বাজেট বা পরিচিতির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কিছু পুজোই তুলনামূলক বেশি প্রচারের সুযোগ পেত। এবার সেই চিত্র বদলে জেলার প্রত্যন্ত এলাকার পুজো থেকে কলকাতার বড় পুজো—সবকিছুকেই একই প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই উদ্দেশ্যেই দুর্গাপুজো সমন্বয় কমিটির ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। dpssinfo.com-এ বিভিন্ন পুজো কমিটির তথ্য, আয়োজন এবং অন্যান্য বিবরণ তুলে ধরা হবে। শুধু তথ্য প্রকাশ নয়, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পুজোগুলির সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও থাকবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। ফলে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের পুজোর আয়োজন শুধু স্থানীয় দর্শক নয়, দেশের বাইরে থাকা মানুষও অনলাইনে দেখতে পারবেন।
রুদ্রনীল জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০টি পুজো কমিটি এই সমন্বয় ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আগামী দিনে সদস্যসংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আরও বেশি পুজো কমিটিকে এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি, যাতে বাংলার দুর্গাপুজোর বৈচিত্র্য আরও বড় পরিসরে মানুষের সামনে তুলে ধরা যায়।
বুধবারের সাংবাদিক বৈঠকে সমিতির অন্যতম উপদেষ্টা প্রীতম সরকারও উপস্থিত ছিলেন। সব মিলিয়ে ভিআইপি পাস বা টিকিটের আর্থিক লেনদেন না রাখা, ছোট-বড় সমস্ত পুজোকে সমানভাবে প্রচারের আওতায় আনা এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পুজোর লাইভ সম্প্রচার—এই তিনটি উদ্যোগকেই বিশেষভাবে সামনে রাখল দুর্গাপুজো সমন্বয় কমিটি।




















