জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের সমাবেশ, একাধিক শর্ত দিল্লি পুলিশের

জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে INDIA জোটের সমাবেশ, একাধিক শর্ত দিল্লি পুলিশের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



নয়াদিল্লি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ সমাবেশ করতে চলেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন INDIA জোট। সেই সমাবেশের জন্য অনুমতি দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে অনুমতির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক শর্ত। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, সিসিটিভি নজরদারি, যানবাহন পার্কিং এবং সমাবেশ শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা—সব ক্ষেত্রেই আয়োজকদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন INDIA জোট। সেই অভিযোগের প্রতিবাদেই ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিকে সফল করতে রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের নেতৃত্বে প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থককে দিল্লিতে জড়ো করার পরিকল্পনা নিয়েছেন আয়োজকেরা। তাঁদের লক্ষ্য, অন্তত ১০ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটানো।

২৫ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত ব্যবহারের অনুমতি

দিল্লি পুলিশের এক মুখপাত্র মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর জানিয়েছেন, ২৫ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত রামলীলা ময়দান ব্যবহারের জন্য কংগ্রেসকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়েছে। তবে ময়দান ব্যবহারের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জমি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীল।

নিরাপত্তা ও নজরদারির ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে পুলিশ। প্রবেশ ও প্রস্থান গেট, মঞ্চ, বসার জায়গা এবং ময়দানের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা, অন্তত পাঁচটি স্ক্রিন-সহ মনিটরিং সিস্টেম এবং পৃথক সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম রাখার কথাও বলা হয়েছে।

জল, শৌচাগার ও স্বেচ্ছাসেবকের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক

সমাবেশে আগত মানুষের সুবিধার জন্য পর্যাপ্ত জলের ট্যাঙ্কার ও শৌচাগারের ব্যবস্থা করতে হবে আয়োজকদের। মহিলাদের জন্য পৃথক শৌচাগারের ব্যবস্থাও রাখতে হবে। ভিড় সামলানো এবং কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। তাঁদের একই ধরনের পোশাক পরতে হবে অথবা পরিচয়যোগ্য অভিন্ন ব্যাজ রাখতে হবে।

বিকেল ৫টার মধ্যে শেষ করতে হবে সভা

দিল্লি পুলিশের শর্ত অনুযায়ী, ১ নভেম্বর বিকেল ৫টার মধ্যে সমাবেশ শেষ করতে হবে। এরপর অংশগ্রহণকারীদের ময়দান ছেড়ে চলে যেতে হবে। কোনও অবস্থাতেই কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ের পরে চালানো যাবে না।

যানবাহন চলাচল নিয়েও স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। বাস, গাড়ি, টেম্পো-সহ সমস্ত যানবাহন ট্রাফিক পুলিশের নির্ধারিত জায়গাতেই পার্ক করতে হবে। রামলীলা ময়দান থেকে অন্য কোনও গন্তব্যের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়া যাবে না।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিপুল জমায়েতের পরিকল্পনার পাশাপাশি পুলিশের নির্ধারিত শর্ত মেনে সমাবেশ পরিচালনা করাই এখন আয়োজকদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top