কলকাতা
মালদহ ও মুর্শিদাবাদে গঙ্গার ভাঙন সমস্যা মোকাবিলায় এবার একযোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকে এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, আগামী এক বছরের মধ্যেই এই উদ্যোগের সুফল পেতে শুরু করবেন সাধারণ মানুষ।
প্রশাসন সূত্রে খবর, বৈঠকে ঝাড়খণ্ড, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের নদী অববাহিকায় জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং বা নদী থেকে পলি তোলার কাজের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নদীর নাব্যতা বজায় রাখা এবং ভাঙন পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করতে ঝাড়খণ্ড সরকারকে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ সহযোগিতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় জলশক্তিমন্ত্রী সি আর পাতিল।
গঙ্গা ও ফুলহারের দূরত্ব মাত্র ৭৫০ মিটার!
গঙ্গার গতিপথ পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এনেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের দাবি, গত পাঁচ দশকে গঙ্গা নদী তার গতিপথ পরিবর্তন করে প্রায় ছয় কিলোমিটার সরে এসেছে। বর্তমানে মালদহে গঙ্গা ও ফুলহার নদীর মধ্যবর্তী দূরত্ব কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৫০ মিটারে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী ছয় থেকে সাত বছরের মধ্যে গঙ্গা ও ফুলহার পরস্পরের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। তেমনটা ঘটলে ফরাক্কা ব্যারেজের কার্যকারিতা নিয়ে বড়সড় আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর এবং মালদহ শহরের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
ভাঙন রুখতে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি
মালদহ ও মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ এলাকায় গঙ্গার ভাঙন দীর্ঘদিনের সমস্যা। নদীভাঙনের জেরে বহু মানুষকে ঘরবাড়ি ও জমি হারাতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই নজর ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের।
তবে এক বছরের মধ্যে সুফল পাওয়ার আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, তা নির্ভর করবে ড্রেজিং, নদী ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির সমন্বিত পদক্ষেপের উপর।




















