
মহুয়ায় মুগ্ধ গোটা দেশ। বিশেষত মহিলা সাংসদরা তাঁর ভাষণের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। অনেকেই বলছেন, ‘মহুয়া মৈত্র আমাদের মুখ।’ মঙ্গলবার সাংসদ হিসেবে প্রথম বক্তৃতায় ঝড় তুলেছিলেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ। ২৪ ঘণ্টা পরেও রাজধানীতে তাঁর ভাষণ নিয়ে আলোচনা চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় উচ্ছ্বাস। বেশিরভাগের মতে, লোকসভায় এমন ঝাঁঝালো বক্তৃতা দেওয়ার মতো মহিলা সাংসদের বড্ড প্রয়োজন ছিল। মহুয়া সেই খামতি পূরণ করেছেন।
দলমত নির্বিশেষে মহুয়াকে নিজেদের গর্ব বলে মনে করছেন লোকসভার মহিলা সাংসদ ডিএমকে নেত্রী কানিমোঝি এবং টি সুমতি টি থাঙ্গাপান্দিয়ান, এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে, কংগ্রেস সাংসদ এস জ্যোতিমণি, জ্যোৎস্না চরণদাস, গীতা কোরা, বসপা সাংসদ সঙ্গীতা আজাদরা। ভাষণ শেষ করার পর তাঁরা প্রত্যেকেই মহুয়াকে নিজেদের ভাল লাগার কথা জানিয়েছেন।
তামিলনাড়ুর ডিএমকে নেত্রী কানিমোঝি বলেছেন, ‘বাংলার নেত্রী কেমন হয় মমতা ব্যানার্জিকে যাঁরা দেখেছেন তাঁরা জানেন। মহুয়ার মধ্যে মমতাদির ঝাঁজ রয়েছে।’ দলেরই আর এক সাংসদ টি সুমতি টি থাঙ্গাপান্দিয়ান এদিন মহুয়া সম্পর্কে বলেছেন, ‘মহুয়ার সঙ্গে আলাপ হওয়ার পরেই ওঁর দক্ষতার আঁচ পেয়েছিলাম। ওঁর ভাষণ শুনব বলে বসেছিলাম ওঁর পাশেই।’ বসপা সাংসদ সঙ্গীতা আজাদের কথায়, ‘আমিও প্রথমবার সাংসদ হয়ে এসেছি। এখন দেখছি মহুয়ার কাছে অনেক কিছু শিখতে হবে।’
তৃণমূল সাংসদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন টিডিপি–র জয়দেব গাল্লা ও রামমোহন নাইডু–সহ অন্য সাংসদরাও। তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার মহুয়ার ভাষণের ভিডিও পোস্ট করে প্রশংসা করেছেন। ভাষণ শেষ হতেই নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে এসে সাধুবাদ জানিয়েছেন দলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। পরে প্রশংসা করেছেন তৃণমূলের লোকসভার নেতা সুদীপ ব্যানার্জিও। তাঁদের মতে, আগামী ৫ বছর মোদি সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারেন মমতা ব্যানার্জির এই যোদ্ধা।
টুইটার ও ফোসবুকে ভাইরাল হয়েছে মহুয়ার বক্তৃতার ভিডিও। সঙ্গীতশিল্পী কবীর সুমন লিখেছেন, শাবাশ! ইউনাইটেড নেশনসে কর্মরত জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ সুদেশন রেড্ডি ফেসবুকে মহুয়ার ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমাদের সংসদে এমন আওয়াজ আরও শোনা গেলে ভাল লাগবে।’ অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিক্সের প্রাক্তন সহকারী নির্দেশক সিদ্ধার্থ দে লিখেছেন, ‘চিত্তাকর্ষক বাঙালি শিক্ষিত নারী— বুদ্ধিমতী, স্পষ্ট বক্তা এবং সুন্দরী! আপনি মমতা ব্যানার্জিকে পছন্দ করুন বা না করুন, নবনির্বাচিত তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রর প্রথম বক্তৃতা হয়তো পছন্দ করবেন।’ উচ্ছ্বাসে ভেসে না গিয়ে কৃষ্ণনগরের সাংসদ অবশ্য মাটিতেই পা রাখছেন। সংসদ মুলতুবি হওয়ার পর এদিন তিনি ব্যস্ত থেকেছেন নিজের কাজে।


















