রাজ্য – রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভোট-পরবর্তী সমীকরণকে ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের সম্ভাব্য সংযুক্তিকরণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে সেই সমস্ত জল্পনায় কার্যত জল ঢেলে দিল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সোনিয়া গান্ধীর বৈঠককে কেন্দ্র করে যে ধরনের রাজনৈতিক ব্যাখ্যা সামনে আনা হচ্ছে, তার কোনও বাস্তব ভিত্তি নেই।
বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছিল। অনেকের ধারণা ছিল, জাতীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির লক্ষ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে পারে তৃণমূল। এমনকি দুই দলের একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও নানা মহলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
দিল্লিতে ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকের ফাঁকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোনিয়া গান্ধীর মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনা হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছিল। পাশাপাশি কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপালের ডাকা জরুরি বৈঠকও সেই জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছিল।
তবে বৃহস্পতিবার দিল্লির ইন্দিরা ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর কংগ্রেস নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস বা কোনও সম্ভাব্য রাজনৈতিক সংযুক্তিকরণ নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। বরং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, নিট-সহ একাধিক জাতীয় ইস্যুই ছিল আলোচনার মূল বিষয়।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেসি বেণুগোপাল বলেন, তৃণমূল সংক্রান্ত কোনও বিষয় বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল না। একইসঙ্গে জয়রাম রমেশও জানান, সোনিয়া গান্ধী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। সেই সূত্রে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক সংযুক্তিকরণ নিয়ে কোনও কথাবার্তা হয়নি। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের খবরকে তিনি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই মন্তব্য করেন।
কংগ্রেস নেতৃত্বের এই স্পষ্ট অবস্থানের পর তৃণমূল-কংগ্রেস সংযুক্তিকরণ নিয়ে যে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত অনেকটাই স্তিমিত হয়ে গেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।




















