রাজ্য – উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন পার্থ কর্মকার। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার তিনি স্কুলশিক্ষা দফতরে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। ঘটনাচক্রে একই দিনে বিকাশ ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে পূর্বতন সরকারের মনোনীত পদাধিকারীদের পদত্যাগ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন উচ্চ শিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
মন্ত্রী জানান, কলেজ পরিচালন সমিতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতি থেকে ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যক্তি পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি যাঁরা এখনও দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদেরও নিজ সম্মান বজায় রেখে পদ ছেড়ে দেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গত ৯ মে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পরই বিদায়ী সরকারের মনোনীত পদাধিকারীদের পদত্যাগের নির্দেশিকা জারি করা হয়। সেই সঙ্গে রাজ্যের সমস্ত কলেজ পরিচালন সমিতি ভেঙে দেওয়া হয়। তবে এখনও কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতি ও কলেজ পরিচালন সমিতিতে পূর্বতন সরকারের মনোনীত সদস্যরা রয়েছেন বলে অভিযোগ। আচার্য মনোনীত সদস্যদের ক্ষেত্রেও পদত্যাগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতির পদে পরিবর্তন আনা হয় এবং চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে সরিয়ে পার্থ কর্মকারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাজ্যে সরকার মনোনীত পদাধিকারীদের সরে যাওয়ার নির্দেশিকা জারি হলেও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলপ্রকাশের কারণে তিনি পদে ছিলেন।
ফলপ্রকাশের দায়িত্ব সম্পন্ন করার পরও প্রায় এক মাস প্রশাসনিক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন পার্থ কর্মকার। এর আগে সংসদের সচিব প্রিয়দর্শিনী মল্লিক পদত্যাগ করেন। তিনি তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কন্যা।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পূর্বতন সরকারের আমলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। ক্ষমতার পরিবর্তনের পর নতুন সরকার সেই কাঠামো বদলাতে উদ্যোগী হয়েছে। তবে একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক পদাধিকারী অপসারণ ও সমিতি ভেঙে দেওয়ায় কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, এই পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।




















