ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার তৃণমূলের, বিধায়ক পদ নিয়ে শুরু জল্পনা

ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার তৃণমূলের, বিধায়ক পদ নিয়ে শুরু জল্পনা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য -;দলবিরোধী কার্যকলাপ এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কার করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যেই বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ই-মেল এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও দুই বিধায়ককে বহিষ্কারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।

রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে সরব হতে দেখা গিয়েছিল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে। বিশেষ করে বিধায়কদের সই জালিয়াতি বিতর্কে প্রকাশ্যে দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর থেকেই তাঁদের সঙ্গে দলের দূরত্ব বাড়তে শুরু করে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। শেষ পর্যন্ত সেই মতবিরোধই বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

দুই বিধায়কের বহিষ্কারের পরই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এর ফলে তাঁদের বিধায়ক পদও কি খারিজ হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি এতটা সরল নয়। দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী কোনও জনপ্রতিনিধির সদস্যপদ বাতিল হতে পারে যদি তিনি স্বেচ্ছায় দল ত্যাগ করেন, অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেন অথবা বিধানসভায় দলের হুইপ অমান্য করেন।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার ক্ষেত্রে সেই ধরনের কোনও ঘটনা ঘটেনি বলেই জানা যাচ্ছে। তাঁরা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দলত্যাগ করেননি, অন্য কোনও রাজনৈতিক দলেও যোগ দেননি এবং বিধানসভায় দলের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগও সামনে আসেনি। ফলে শুধুমাত্র দল থেকে বহিষ্কারের ভিত্তিতে তাঁদের বিধায়ক পদ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা।

তবে তৃণমূল চাইলে স্পিকারের কাছে পৃথকভাবে আবেদন জানিয়ে দুই বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের দাবি তুলতে পারে। পাশাপাশি তাঁদের আর তৃণমূল পরিষদীয় দলের সদস্য হিসেবে গণ্য না করার আবেদনও জানানো হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে বিধানসভার স্পিকারের হাতে। যদি স্পিকার তাঁদের তৃণমূল পরিষদীয় দলের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি না দেন, তাহলে বিধানসভায় তাঁরা আর তৃণমূল শিবিরের সঙ্গে বসতে পারবেন না। এমনকি দলের বরাদ্দ সময়ের অংশ হিসেবেও বক্তব্য রাখার সুযোগ সীমিত হতে পারে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বহিষ্কার শুধুমাত্র সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নয়, আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে তার রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top