কালীঘাটের বাড়ি নিয়ে পুরসভার নোটিসকে চ্যালেঞ্জ, হাই কোর্টে অভিষেকের বাবা-মা

কালীঘাটের বাড়ি নিয়ে পুরসভার নোটিসকে চ্যালেঞ্জ, হাই কোর্টে অভিষেকের বাবা-মা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – কালীঘাটের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে অবস্থিত বাড়িটি সম্পূর্ণ বৈধ নিয়ম মেনেই নির্মিত হয়েছে এবং সেখানে কোনও বেআইনি নির্মাণ হয়নি বলে দাবি করে কলকাতা পুরসভার নোটিসের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা অমিত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরসভার পাঠানো নোটিস বাতিলের আবেদন জানিয়ে তাঁরা কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন।

সূত্রের খবর, কলকাতা হাই কোর্টে দায়ের হওয়া এই মামলার শুনানি আগামী বুধবার অবকাশকালীন বেঞ্চে হতে পারে। পুরসভার পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আবেদনকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিটি আইন মেনেই তৈরি হয়েছে এবং বেআইনি নির্মাণের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই।

সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর সংস্থার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সম্পত্তিতে নোটিস পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গত শনিবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নোটিসে নির্মাণ সংক্রান্ত বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করা হলেও সেই অভিযোগের নির্দিষ্ট বিবরণ বা প্রয়োজনীয় সংযুক্ত নথি দেওয়া হয়নি।

অভিষেকের দাবি, তাঁর কাছে পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। নোটিসে ‘ব্রিফ অফ ডিভিয়েশন’ জমা দেওয়ার কথা বলা হলেও কোথায় কী ধরনের বিচ্যুতি হয়েছে, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পুরসভার পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, নাগরিক হিসেবে নিজের অধিকার রক্ষার জন্য আইনি পথেই তিনি এগোবেন এবং ইতিমধ্যেই লিখিতভাবে পুরসভাকে জবাবও পাঠিয়েছেন।

এই বিতর্কের মধ্যেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ পুরসভার কাছে অতিরিক্ত ১০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুরসভার চাওয়া সমস্ত তথ্য ও নথি জমা দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ ও প্রস্তুত করতে কিছু অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসংস্থার ৪০১ ধারার আওতায় একাধিক সম্পত্তিতে নোটিস পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলির অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান, নির্মাণ সংক্রান্ত শংসাপত্র এবং অতিরিক্ত নির্মাণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে নির্মাণকাজ হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রথমে দু’টি সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে নোটিসের খবর সামনে এলেও পরে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, মোট প্রায় ১৭টি সম্পত্তিতে এই ধরনের নোটিস পাঠানো হয়েছে। যার মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয়দের নামে থাকা কয়েকটি সম্পত্তিও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

পুরসভার এই পদক্ষেপ এবং তার বিরুদ্ধে অভিষেক পরিবারের আইনি লড়াই ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এখন আদালতের রায় এবং পরবর্তী শুনানির দিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সকলের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top