মেসি ইভেন্ট বিতর্কে বিস্ফোরক মোড়, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ১০০ কোটির মানহানি মামলার পথে শতদ্রু দত্ত

মেসি ইভেন্ট বিতর্কে বিস্ফোরক মোড়, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ১০০ কোটির মানহানি মামলার পথে শতদ্রু দত্ত

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির উপস্থিতিকে ঘিরে গত বছরের বহুল আলোচিত বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি মাত্রা পেল। সেই অনুষ্ঠানের অন্যতম উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্ত ঘোষণা করেছেন, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও মানহানির মামলা দায়ের করতে চলেছেন তিনি। আগামী ৩ জুন এই উচ্চপ্রোফাইল দেওয়ানি মামলা আদালতে দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন শতদ্রু।

সোমবার সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শতদ্রু দত্ত দাবি করেন, অরূপ বিশ্বাস ছাড়াও মামলার বিবাদী হিসেবে থাকবেন আরও কয়েকজন ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন স্বরূপ বিশ্বাসের স্ত্রী জুঁই বিশ্বাস এবং কয়েকজন নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক। শতদ্রুর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, ব্যবসায়িক সুনাম এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানের বাণিজ্যিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

শতদ্রুর দাবি, ইতিমধ্যেই বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দায়ের হওয়া এফআইআরে আরও একাধিক ধারা যুক্ত করার আবেদন জানানো হবে। ফৌজদারি ষড়যন্ত্র, প্রতারণা, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও প্রমাণ এবং অন্যান্য নথির ভিত্তিতেই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

উদ্যোক্তার দাবি অনুযায়ী, যুবভারতীর বিতর্কিত ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯ জন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা খতিয়ে দেখে আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বাটা ক্লাবের প্রতিনিধি অভিজিৎ দত্তের বিরুদ্ধেও আর্থিক ক্ষতিপূরণের মামলা দায়েরের কথা জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে আয়োজিত লিওনেল মেসি সংক্রান্ত অনুষ্ঠান। শতদ্রুর অভিযোগ, তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী বিপুল সংখ্যক বিনামূল্যের টিকিট দাবি করেছিলেন এবং সেই দাবি পূরণ না হলে অনুষ্ঠান ভণ্ডুল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার সৌজন্যমূলক টিকিট সংগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগ আরও, সেই টিকিটগুলির একটি বড় অংশ পরবর্তীতে কালোবাজারিতে বিক্রি করা হয়। ফলে বহু সাধারণ ফুটবলপ্রেমী টিকিট না পেলেও স্টেডিয়ামের ভেতরে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানের দিন বিশৃঙ্খলা চরমে পৌঁছায় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এর আগে গত ১৯ মে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাস, জুঁই বিশ্বাস, আইএএস আধিকারিক শান্তনু বসু এবং তৎকালীন শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শতদ্রু দত্ত। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতার কারণেই অনুষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

১৩ ডিসেম্বরের ঘটনার পর দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে রাজ্যের ক্রীড়া প্রশাসন। সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তুঙ্গে ওঠে। এবার সেই বিতর্ক নতুন মোড় নিল ১০০ কোটি টাকার মানহানি ও ক্ষতিপূরণের মামলার ঘোষণায়। ফলে আগামী দিনে এই মামলা রাজ্যের রাজনৈতিক ও ক্রীড়া মহলে আরও বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top