বহিষ্কৃত দুই বিধায়ককে তীব্র আক্রমণ কুণাল ঘোষের, স্বাক্ষর বিতর্কে বাড়ল রাজনৈতিক চাপানউতোর

বহিষ্কৃত দুই বিধায়ককে তীব্র আক্রমণ কুণাল ঘোষের, স্বাক্ষর বিতর্কে বাড়ল রাজনৈতিক চাপানউতোর

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – বিধানসভার স্বাক্ষর বিতর্ককে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তৈরি হওয়া মতবিরোধ এবার প্রকাশ্যে চলে এসেছে। উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর তাঁদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে কার্যত দলবিরোধী অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন তোলেন, দলের ভিতরে আলোচনা না করে কেন সরাসরি স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানানো হল।

সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিধানসভার স্বাক্ষর সংক্রান্ত অভিযোগ প্রথম লিখিতভাবে স্পিকারের কাছে জমা দিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। এরপরই তাঁদের বিরুদ্ধে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ এনে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কুণাল ঘোষ বলেন, কোনও বিধায়কের যদি দলীয় কার্যকলাপ বা সাংগঠনিক বিষয়ে আপত্তি থাকে, তাহলে প্রথমে দলের নেতৃত্বকে জানানোই উচিত। তাঁর প্রশ্ন, দলের কাছে বিষয়টি উত্থাপন না করে সরাসরি সরকার পক্ষ বা স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানানো কেন প্রয়োজন হল।

কুণালের বক্তব্য, দুই বিধায়কই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, দলের নেতৃত্বের প্রচার, সংগঠন এবং রাজনৈতিক পরিশ্রমের ফলেই তাঁরা বিধানসভায় পৌঁছেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে বর্তমান অবস্থানকে তিনি প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।

তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর কিছু নেতা ও জনপ্রতিনিধির অবস্থানও বদলাতে শুরু করেছে। তাঁর মতে, ক্ষমতার সমীকরণ পরিবর্তনের পরই অনেকের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিরোধী শিবিরে বসার বাস্তবতা মেনে নিতে না পেরেই কেউ কেউ অন্য পথে হাঁটছেন কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

কুণাল ঘোষ আরও বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত বা কার্যপদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধ থাকলে তা সাংগঠনিক স্তরে আলোচনা করা যায়। প্রয়োজন হলে প্রকাশ্যেও মতামত জানানো সম্ভব। কিন্তু দলকে না জানিয়ে সরাসরি অন্য পথে অভিযোগ জানানোকে তিনি অস্থিরতা এবং রাজনৈতিক অধৈর্যের পরিচয় বলে মন্তব্য করেন।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে সবচেয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন কুণাল। তাঁর দাবি, অতীতে দল ঋতব্রতকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব দিয়েছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে পাশে থেকেছে। কিন্তু সেই আস্থার যথাযথ প্রতিদান পাওয়া যায়নি বলেই তাঁর অভিযোগ। পাশাপাশি ঋতব্রতের রাজনৈতিক অবস্থান এবং অতীত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অন্যদিকে সন্দীপন সাহার ক্ষেত্রে তুলনামূলক সংযত অবস্থান নেন কুণাল ঘোষ। তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে সন্দীপনের প্রতি তাঁর স্নেহ রয়েছে। তবে প্রার্থী হওয়ার সময় যেসব রাজনৈতিক ও নৈতিক প্রশ্ন তোলা হয়নি, বর্তমানে সেই অবস্থান পরিবর্তনের কারণ নিয়েও প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, ভুল রাজনৈতিক পরামর্শ এবং বাইরের প্রভাবের কারণেই সন্দীপন এই পথে এগোচ্ছেন।

স্বাক্ষর বিতর্ক, দলীয় বহিষ্কার এবং পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অস্বস্তি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আগামী দিনে বহিষ্কৃত দুই বিধায়কের অবস্থান এবং দলীয় নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেদিকেই।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top