রাজ্য – উত্তরবঙ্গের শিল্পোন্নয়নকে নতুন গতি দিতে নবান্নে অনুষ্ঠিত হল উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। চা শিল্পকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন পরিচিতি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের পথে রাজ্য সরকার। পাহাড়কে ‘ল্যান্ড অফ টি’ হিসেবে বিশ্ববাজারে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রেও বিনিয়োগ বাড়ানোর রূপরেখা নিয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৃহস্পতিবার নবান্নে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত, পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ এবং প্রায় ৪০ জন শিল্পপতি। বৈঠকে উত্তরবঙ্গে শিল্প সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সরকারের লক্ষ্য শুধুমাত্র চা শিল্প নয়, উত্তরবঙ্গে অন্যান্য সম্ভাবনাময় শিল্পক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা কাজে লাগিয়ে নতুন লগ্নি টানা। পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ জানান, আর্থিক প্রণোদনা, নীতিগত সংস্কার এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমেই উত্তরবঙ্গকে বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে পৌঁছে শিল্পের বিকাশ ঘটানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
বৈঠকে শিল্পপতিরাও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন। উত্তরবঙ্গের জন্য পৃথক শিল্প-সহায়ক নীতি, জিএসটি সংক্রান্ত বিশেষ সুবিধা, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ এবং কলকাতার পরিবর্তে জেলা স্তরেই বিভিন্ন লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়। এতে শিল্প স্থাপনের প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে বলে মত শিল্পমহলের।
রাজ্য সরকার আগেই জানিয়েছিল, শিল্প স্থাপনের উদ্দেশ্যে বরাদ্দ জমি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে তা ফেরত নেওয়া হবে। এই প্রসঙ্গেও বৈঠকে আলোচনা হয়। পর্যটনমন্ত্রী জানান, দক্ষিণবঙ্গের তুলনায় উত্তরবঙ্গে শিল্পের জন্য উপযুক্ত জমি তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য। ফলে নতুন শিল্প গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই অঞ্চল বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। সেই সম্ভাবনাকেই কাজে লাগিয়ে উত্তরবঙ্গকে আগামী দিনে একটি শক্তিশালী শিল্প ও বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার।




















