চাকরি নিয়ে বিজেপির প্রশ্ন, বিস্তারিত ব্যাখ্যায় জবাব মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের

চাকরি নিয়ে বিজেপির প্রশ্ন, বিস্তারিত ব্যাখ্যায় জবাব মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – বাম আমলের চাকরি নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আবহে এবার সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের অতীত চাকরি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ। অভিযোগ ওঠার পর নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকরিতে যোগদানের প্রক্রিয়া এবং চাকরি ছাড়ার কারণ নিয়ে প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন মীনাক্ষী।

সম্প্রতি উত্তরপাড়ার বিজেপি বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ প্রশ্ন তোলেন, কলা বিভাগের ছাত্রী হয়েও কীভাবে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় একটি বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষাগারে সহকারী পদে চাকরি পেয়েছিলেন। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়।

এর জবাবে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় জানান, যাঁরা সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম এবং পারিবারিক বাস্তবতা বোঝেন না, তাঁরাই এ ধরনের প্রশ্ন তুলছেন। তাঁর দাবি, পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতির কারণে তাঁকে চাকরিতে যোগ দিতে হয়েছিল এবং সেই সিদ্ধান্ত ছিল সম্পূর্ণ প্রয়োজনের তাগিদে নেওয়া।

মীনাক্ষী জানান, স্কুলজীবন শেষ করার পর তিনি আসানসোলের একটি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে ভর্তি হন এবং ২০০৫ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এছাড়াও ২০১০ সালে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পূর্ণ করেন।

চাকরি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ২০০৮ সালে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কুলটি কলেজে পরীক্ষাগার সহকারী পদে নিয়োগ পান। সেই সময় তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত কঠিন ছিল। বাবার অসুস্থতার কারণে সংসারের দায়িত্বের একটি বড় অংশ তাঁর উপর এসে পড়েছিল। পরিবারের বড় মেয়ে হিসেবে চাকরিটি গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প ছিল না বলেই তিনি দাবি করেন।

সিপিএম নেত্রীর বক্তব্য, চাকরির জন্য কোনও রাজনৈতিক সুপারিশ বা প্রভাব খাটানো হয়নি। সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিজ্ঞাপন দেখে তিনি আবেদন করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে নিয়ম মেনে নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাকরি পান। তাই তাঁর নিয়োগ নিয়ে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন তিনি।

বিজেপি বিধায়কের মূল প্রশ্নের জবাবে মীনাক্ষী স্পষ্ট করেন, তিনি বিজ্ঞান বিভাগের নয়, ভূগোল বিভাগের পরীক্ষাগারে কর্মরত ছিলেন। ভূগোল বিষয়টি শিক্ষাব্যবস্থায় কলা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সেখানে তাঁর নিয়োগে কোনও অসঙ্গতি ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

চাকরির পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন মীনাক্ষী। পরবর্তীতে দলের নীতি অনুযায়ী পূর্ণসময়ের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই কারণেই ২০১৮ সালে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। চাকরি ছাড়ার সময় তাঁর মাসিক বেতন প্রায় সাড়ে আট হাজার টাকা ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি।

বর্তমানে তিনি সিপিএমের পূর্ণসময়ের কর্মী হিসেবে কাজ করছেন। দলীয় নীতি অনুযায়ী ব্যক্তিগত চাকরি বা অন্য কোনও পেশার সঙ্গে যুক্ত নন। দল থেকে প্রাপ্ত ভাতাই তাঁর একমাত্র আয়ের উৎস বলে জানিয়েছেন মীনাক্ষী। নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হলফনামাতেও সেই তথ্য উল্লেখ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

চাকরি সংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে মীনাক্ষীর বক্তব্য, তাঁর নিয়োগ এবং চাকরি জীবনের প্রতিটি ধাপই নিয়মমাফিক ছিল। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তোলা অভিযোগে তিনি বিচলিত নন। বরং নিজের সংগ্রাম, পরিশ্রম এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাই এই বিতর্কের সবচেয়ে উপযুক্ত জবাব বলে মনে করেন সিপিএমের এই নেত্রী।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top