তৃণমূলে গণতন্ত্র নেই, ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয়! বিস্ফোরক অভিযোগ বিধায়ক জাভেদ খানের

তৃণমূলে গণতন্ত্র নেই, ভবিষ্যৎ নিয়েও সংশয়! বিস্ফোরক অভিযোগ বিধায়ক জাভেদ খানের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের পরিস্থিতি নিয়ে এবার প্রকাশ্যে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন দলের বিধায়ক জাভেদ খান। দলীয় গণতন্ত্রের অভাব, নেতৃত্বের একতরফা সিদ্ধান্ত এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মত প্রকাশের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তাঁর বক্তব্য, বহু নেতার মতামত গুরুত্ব না পাওয়ায় দলের ভিতরে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।

এক সাক্ষাৎকারে জাভেদ খান অভিযোগ করেন, দলের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলিতে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হত না। তাঁর দাবি, বৈঠকে উপস্থিত থাকলেও অনেকের কার্যত কোনও ভূমিকা থাকত না, কারণ অধিকাংশ সিদ্ধান্ত আগেই নির্ধারিত হয়ে যেত। ফলে বৈঠকগুলি অনেক ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকত বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জাভেদ আরও দাবি করেন, তিনি নিজে একাধিকবার দলের ভিতরে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। অন্তত চারটি বিষয়ে সরাসরি প্রশ্ন করলেও কখনও সন্তোষজনক উত্তর পাননি বলে তাঁর অভিযোগ। তাঁর মতে, কোনও রাজনৈতিক দলে যদি প্রশ্ন তোলার সুযোগ না থাকে এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, তাহলে সেই দলের গণতান্ত্রিক কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

দলীয় পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, যেখানে গণতন্ত্র নেই, সেখানে ভবিষ্যৎও নেই। তাঁর দাবি, বর্তমানে তৃণমূলের ভিতরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে আগামী দিনে আরও বহু নেতা দল ছাড়তে পারেন। সম্প্রতি দলত্যাগের ঘটনাগুলির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রকাশ্যে যা দেখা যাচ্ছে তার থেকেও বেশি সংখ্যক নেতা ও কর্মী অসন্তুষ্ট রয়েছেন।

জাভেদের বক্তব্য অনুযায়ী, দলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। কিন্তু সেই ক্ষোভ প্রকাশের জন্য উপযুক্ত কোনও মঞ্চ ছিল না। ফলে অনেকেই নীরবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। এখন সেই অসন্তোষ ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে বলেই তাঁর দাবি।

এদিন তিনি একটি সংবেদনশীল ধর্মীয় অনুষ্ঠান সংক্রান্ত ঘটনাও সামনে আনেন। জাভেদের অভিযোগ, রেড রোডে ইদের নামাজ আয়োজন নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান এবং দলীয় নির্দেশের মধ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি ছিল। তাঁর দাবি, পুলিশ আগেই জানিয়েছিল যে সেখানে নামাজ আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হবে না। তারপরও দলীয় বৈঠকে তাঁকে ওই স্থানেই অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল।

তাঁর অভিযোগ, আপত্তি জানানো সত্ত্বেও তাঁকে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বলা হয়েছিল। জাভেদের মতে, সেদিন রেড রোডে নামাজ আয়োজনের চেষ্টা করা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারত এবং অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হতো।

পরবর্তীতে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে ইদের নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সেই সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক পদক্ষেপকেও তিনি স্বাগত জানিয়েছেন এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে নেওয়া সিদ্ধান্তকে যথাযথ বলে মন্তব্য করেছেন।

জাভেদ খানের এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে দলীয় গণতন্ত্র, নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণ নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এখন তাঁর এই অভিযোগগুলির জবাবে তৃণমূল নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top