রাজ্য – শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভায় শপথ নেওয়ার একদিনের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক তথা নবনিযুক্ত মন্ত্রী অর্জুন সিং। মঙ্গলবার জগদ্দলের মজদুর ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে একাধিক রাজনৈতিক মন্তব্য করেন তিনি।
এদিন অর্জুন সিং দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক দল হিসেবে দীর্ঘদিন টিকতে পারবে না। তাঁর কথায়, যে কোনও রাজনৈতিক দল যখন সম্পূর্ণভাবে প্রশাসনিক ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন সেই দলের রাজনৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়। এই প্রসঙ্গেই তিনি তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
অর্জুন সিং আরও বলেন, বিজেপি যদি দলের দরজা খুলে দেয়, তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া তৃণমূলে আর কেউ থাকবে না। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রসঙ্গেও কড়া মন্তব্য করেন অর্জুন সিং। তিনি একাধিক গুরুতর অভিযোগ তোলেন এবং দাবি করেন, তৃণমূলের শাসনকালে বিভিন্ন ধরনের অত্যাচার ও হিংসার ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, আইনের শাসনের আওতায় সকলকেই জবাবদিহি করতে হবে এবং কোনও ব্যক্তিই আইনের ঊর্ধ্বে নন।
তবে অর্জুন সিংয়ের তোলা অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের অভিযোগের সত্যতা আদালত বা তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমেই নির্ধারিত হতে পারে।
মন্ত্রী হিসেবে তিনি কোন দপ্তরের দায়িত্ব পেতে পারেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা চলছে। যদিও এদিন সেই বিষয়ে কোনও ইঙ্গিত দেননি অর্জুন সিং। তাঁর বক্তব্য, একজন রাজনৈতিক কর্মীর কাছে সব দায়িত্বই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য হবে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলি বাস্তবায়ন করা এবং সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন দ্রুত বদলাচ্ছে, তখন অর্জুন সিংয়ের এই মন্তব্যগুলি নতুন করে রাজনৈতিক তরজা উসকে দিয়েছে। এখন তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে এই বাকযুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




















