রাজ্য – রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, বুধবারই আত্মপ্রকাশ করতে পারে তথাকথিত ‘নতুন তৃণমূল’। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল বিক্ষুব্ধ বিধায়ক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের দাবি, ৫৩ থেকে ৫৪ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিধানসভায় একটি চিঠি জমা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সেই চিঠির মাধ্যমে পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করা হতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। এমনকি ভবিষ্যতে বিরোধী দলের মর্যাদা কিংবা দলীয় প্রতীক নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না পর্যবেক্ষকরা।
গত কয়েকদিন ধরেই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক মঞ্চ গঠনের আলোচনা শোনা যাচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন ও অসন্তোষের খবর সামনে এসেছে। সেই আবহেই নতুন করে এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
মঙ্গলবার বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। শোনা যায়, প্রায় ৫০ জন বিক্ষুব্ধ বিধায়কের সমর্থনপত্র তিনি জমা দিতে পারেন। তবে দিনের শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত জানান, তিনি ব্যক্তিগত কাজে বিধানসভায় গিয়েছিলেন এবং কোনও চিঠি জমা দেওয়ার বিষয়ে তাঁর জানা নেই। বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকের জল্পনাও তিনি উড়িয়ে দেন।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বুধবারই এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। সূত্রের খবর, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিধানসভায় নতুন গোষ্ঠীর স্বীকৃতি চেয়ে আবেদন জানানো হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা হয়নি।
এদিকে বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে। সেখানে বিভিন্ন জেলার বিধায়কদের উপস্থিত থাকার কথা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ওই বৈঠকের পরবর্তী পরিস্থিতিও এই জল্পনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তবে রাজনৈতিক দল ভেঙে নতুন গোষ্ঠী গঠন, দলীয় প্রতীক বা সংগঠনের মালিকানা দাবি করার ক্ষেত্রে শুধু বিধায়কদের সমর্থনই যথেষ্ট নয়। নির্বাচন কমিশন, দলীয় সংবিধান এবং প্রযোজ্য আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আগামী দিনে এই জল্পনা কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।




















