রাজ্য – তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন এবং বিধায়কদের সমর্থন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দায়িত্ব দেওয়ার পর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ধারণা ছিল, তিনি পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবেন। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও এখন নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্রের দাবি, কালীঘাটের বাইরে পৃথক একটি ওয়াররুম থেকে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একাধিক বিধায়কের সমর্থন সংগ্রহের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রমকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ‘অপারেশন জোড়াফুল’ নামেও আলোচনা চলছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
রাজনৈতিক সূত্রে দাবি, রবিবার রাত থেকেই একাধিক তৃণমূল বিধায়ক এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন প্রাক্তন মন্ত্রীও রয়েছেন বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। ধীরে ধীরে সমর্থনকারীদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে এবং সোমবার রাতের মধ্যে সেই সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এমএলএ হস্টেলে গিয়ে কয়েকজন বিধায়কের সমর্থনপত্র সংগ্রহের খবরও সামনে এসেছে। বিভিন্ন জেলার একাধিক বিধায়কের সঙ্গে গত কয়েকদিন ধরেই যোগাযোগ চলছিল বলে রাজনৈতিক মহলের অনুমান। এর ফলে তৃণমূলের অন্দরে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পেতে ৫৩ বা ৫৪ জন বিধায়কের প্রয়োজন। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, সেই সংখ্যার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে বিক্ষুব্ধ শিবির। আরও কয়েকজন বিধায়কের সমর্থন মিললে প্রয়োজনীয় সংখ্যা পূরণ হতে পারে বলেও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্রিয় হয়েছে কালীঘাট শিবিরও। দলীয় সূত্রের দাবি, একাধিক বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন শীর্ষ নেতৃত্ব। বিভিন্ন বিধায়কের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলে তাঁদের অবস্থান জানার চেষ্টা চলছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও কয়েকজন বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে খবর।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরে বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা রাজ্যের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। সংখ্যার অঙ্ক, দলীয় আনুগত্য এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল—সবকিছু নিয়েই এখন জোর চর্চা চলছে।
জানা গিয়েছে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিধায়কের সমর্থন নিশ্চিত হলে তাঁদের বিধানসভায় ডাকার পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজ্য রাজনীতির।




















