টুলু মণ্ডলকে ‘ঘনিষ্ঠ’ বলায় ক্ষুব্ধ অনুব্রত, মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি

টুলু মণ্ডলকে ‘ঘনিষ্ঠ’ বলায় ক্ষুব্ধ অনুব্রত, মানহানির মামলার হুঁশিয়ারি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের নামের সঙ্গে বারবার নিজের নাম জড়ানো নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিলেন অনুব্রত মণ্ডল। টুলুকে তাঁর ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে প্রচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে এই ধরনের দাবি বা প্রচারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করবেন।

অনুব্রত মণ্ডল বলেন, তিনি যখন জেলার সভাপতি ছিলেন, তখন বহু মানুষ তাঁর কাছে আসতেন। তাই বলে সবাইকে তাঁর ঘনিষ্ঠ বলা যায় না। তাঁর কথায়, “বীরভূমে যা ঘটছে, সবাই নাকি অনুব্রত ঘনিষ্ঠ! আমি জেলা সভাপতি ছিলাম, অনেকেই আমার কাছে আসতেন। তা বলে সবাই আমার ঘনিষ্ঠ হয়ে গেল? ওঁর মেয়ের বিয়েতে তো অনেকেই গিয়েছিলেন, আমি যাইনি। আমি কোনও ভোজবাড়িতেই যাই না।” একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, যাঁরা টুলু মণ্ডলের সঙ্গে তাঁর নাম জুড়ে দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

যদিও অনুব্রত মণ্ডল এই দাবি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন, রাজনৈতিক মহল ও স্থানীয় স্তরে দীর্ঘদিন ধরেই টুলু মণ্ডলের উত্থান নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। প্রচলিত দাবি অনুযায়ী, দিনমজুরির কাজ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন টুলু মণ্ডল। পরে পাথর বোঝাই গাড়িতে মাল তোলার ইজারা নিয়ে ধীরে ধীরে ব্যবসা বাড়ান। কয়েকটি লরি কেনার পর নিজেই পাথর পরিবহণের ব্যবসায় নেমে আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হন।

পরবর্তীকালে রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহম্মদবাজার অঞ্চলের পাথর শিল্পকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক গুরুত্ব বাড়তে থাকে। সেই সময় এলাকায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও পাথর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে টুলু মণ্ডলের ব্যবসা আরও বিস্তৃত হয় বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। এছাড়া ২০১৬ সালে ডিসিআর টোলগেট পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর ব্যবসার পরিধি আরও বৃদ্ধি পায় বলে জানা যায়। প্রথমে নিজের এলাকার সোঁতশাল টোলগেট এবং পরে আরও কয়েকটি টোলগেটের দায়িত্ব তাঁর হাতে আসে।

বর্তমানে টুলু মণ্ডলের খোঁজ মিলছে না। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং তাঁকে খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top