কলকাতা – তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকাশ্যে আসা সরকারি নথিতে দেখা গিয়েছে, সংশ্লিষ্ট গুদামের নির্মাণ পরিকল্পনার অনুমোদনের নথিতে তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। একইসঙ্গে এই দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৪-এ পৌঁছেছে এবং ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান এখনও জারি রয়েছে।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, গুদাম নির্মাণের নকশায় গুরুতর ত্রুটি ছিল এবং সেই নকশা অনুমোদনের সরকারি নথিও তিনি সভায় তুলে ধরেন। ওই নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে নির্মাণবিধি লঙ্ঘনের কোনও বিষয় পাওয়া যায়নি এবং চারতলা গুদাম নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। নথিতে কলকাতা পুরসভার নির্মাণ বিভাগের ডিরেক্টর, পুর কমিশনার এবং তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষরও রয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন প্রশাসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও গাফিলতির অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ হাকিম জানান, নির্মাণ পরিকল্পনার প্রযুক্তিগত অনুমোদনের দায়িত্ব মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটির। তাঁর দাবি, কমিশনারের মাধ্যমে ফাইলটি শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের জন্য তাঁর কাছে এসেছিল এবং প্রযুক্তিগত অনুমোদনের ক্ষেত্রে তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না। সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের বিস্তারিত বিষয় সম্পর্কেও তিনি অবগত ছিলেন না বলেই দাবি করেন।
এদিকে কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, সাধারণত অনুমোদিত নির্মাণ পরিকল্পনায় মেয়রের স্বাক্ষর থাকে না। সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার বা পুর কমিশনারের অনুমোদনই কার্যকর হয়। তাই এই নথিতে মেয়রের স্বাক্ষর থাকার বিষয়টি তদন্তের দাবি রাখে বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে তারাতলায় এখনও জোরকদমে উদ্ধার অভিযান চলছে। জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), পুলিশ, দমকল, সেনাবাহিনী এবং ভারতীয় রেলের কর্মীরা যৌথভাবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছেন। ভারী কংক্রিট ও লোহার বিম কাটতে অক্সিকাটার এবং ক্রেন ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকারি হিসেবে এখনও পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে এবং ১৯ জন এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা জানতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
পুরসভার নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জমিটি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীন। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ৩০ বছরের লিজে জমিটি বেহরা ব্রাদার্স সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। আবেদনকারী হিসেবে সংস্থার অংশীদার শম্ভুনাথ বেহরার নামও নথিতে রয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার পর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন নির্মাণ অনুমোদনের প্রক্রিয়া ও দায়বদ্ধতা—দুই বিষয়ই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।




















