দেশ – পাউরুটির দাম বৃদ্ধির প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে চলেছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচে। সকালের নাশতা থেকে সন্ধ্যার জলখাবার—প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা এই অত্যাবশ্যক খাদ্যপণ্যের দাম ইতিমধ্যেই একাধিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ড বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসিক খাদ্য ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বেকারি শিল্পের দাবি, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী আগামী তিন মাস শিল্পকারখানার ব্যবহারের জন্য খোলা পাত্র, জ্যারিকেন বা ড্রামে পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে বহু বেকারি কারখানায় যন্ত্র চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় তিন হাজার বেকারি উৎপাদনে প্রভাব পড়েছে বলে শিল্পমহলের দাবি। অধিকাংশ কারখানাই উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। এমনকি গ্রামীণ এলাকার কয়েকটি বেকারি সাময়িকভাবে উৎপাদনও বন্ধ রেখেছে। এর ফলে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে পাউরুটির সরবরাহেও প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হাসপাতাল, নার্সিংহোম এবং বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাউরুটি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবিতে পশ্চিমবঙ্গ বেকারি অ্যাসোসিয়েশন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের কাছে চিঠি দিয়ে সমস্যার দ্রুত সমাধানের আবেদন জানিয়েছে। সংগঠনের দাবি, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে উৎপাদন এবং মূল্য—দুটিই নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হবে।
ইতিমধ্যেই বাজারে একাধিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের পাউরুটির দাম বেড়েছে। বাজার সূত্রের খবর, ৪০০ গ্রামের এক পাউন্ড হোয়াইট স্লাইসড ব্রেডের দাম ৩৬ টাকা থেকে বেড়ে ৪০ টাকা হয়েছে। একইভাবে ৪০০ গ্রামের হোল হুইট ও মাল্টিগ্রেন ব্রেডের দামও প্রায় ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
পাউরুটি প্রায় প্রতিটি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের উপর পড়বে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা। এখন বেকারি শিল্পের দাবি অনুযায়ী প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।




















