তৃণমূলের ভাঙনের আবহে নতুন সমীকরণের খোঁজ, আগস্টে বিশেষ অধিবেশন ডাকল সিপিএম

তৃণমূলের ভাঙনের আবহে নতুন সমীকরণের খোঁজ, আগস্টে বিশেষ অধিবেশন ডাকল সিপিএম

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনের আবহে নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কৌশল নির্ধারণে বিশেষ অধিবেশন ডাকল সিপিএম। আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট কল্যাণীতে অনুষ্ঠিত হবে এই বিশেষ অধিবেশন। সেখানে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিরোধী রাজনীতির সম্ভাবনা এবং সংগঠন সম্প্রসারণের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। একইসঙ্গে বসবে পার্টির রাজ্য কমিটির বর্ধিত বৈঠক। অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি-সহ পলিটব্যুরোর একাধিক সদস্য।

দলীয় সূত্রে খবর, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রধান প্রতিপক্ষ শিবিরের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ সমস্যার প্রেক্ষাপটে সিপিএম নতুন সম্ভাবনা খুঁজছে। তবে নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে, সদ্য গঠিত সরকারের বিরুদ্ধে এখনই বৃহত্তর আন্দোলনে নামা রাজনৈতিকভাবে লাভজনক নাও হতে পারে। নতুন সরকারকে কিছুটা সময় দেওয়া উচিত বলেই তাঁদের মত। তাই আগামী দিনে আন্দোলনের ধরন, জনসংযোগ কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গভীর আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নেতারা।

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে সিপিএম নেতৃত্ব দেখেছে যে গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তোলা হলেও ভোটের অঙ্কে তার উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন ঘটেনি। দলীয় ভোটের হার প্রায় পাঁচ শতাংশের আশেপাশেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। একসময় দলের সঙ্গে থাকা দরিদ্র ও শ্রমজীবী ভোটারদের বড় অংশকে এখনও ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।

তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলে কিছু ইতিবাচক দিকও দেখছে দল। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে দীর্ঘদিন পর খাতা খুলতে সক্ষম হয়েছে সিপিএম এবং একজন বিধায়ককে বিধানসভায় পাঠাতে পেরেছে। পাশাপাশি ফলতা কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসাও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উৎসাহ জুগিয়েছে। নেতৃত্বের একাংশের মতে, রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যদি আরও পরিবর্তন ঘটে, তাহলে আগামী দিনে দলের সংগঠন ও ভোটভিত্তি আরও শক্তিশালী হতে পারে। সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের একটি অংশও ফের বামেদের দিকে ফিরে আসতে পারে বলে আশাবাদী তারা।

এদিকে রাজ্য কমিটির বৈঠকের দ্বিতীয় দিনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কৃষক নেতা মেঘনাথ ভূঁইয়া এবং যুবনেতা ধ্রুবজ্যোতি চক্রবর্তীকে। এর আগে ডোমকলের বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানাকে রাজ্য কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য করা হয়েছে। শূন্য থেকে দলকে বিধানসভায় প্রতিনিধিত্ব এনে দেওয়ার স্বীকৃতি হিসেবেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও রাজ্য কমিটিতে স্থান পেয়েছেন গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির রাজ্য সম্পাদক মোনালিসা সিনহা।

আগস্টের বিশেষ অধিবেশনকে ঘিরে ইতিমধ্যেই দলীয় মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপরেখা এবং সংগঠন পুনর্গঠনের পরিকল্পনা এই বৈঠক থেকেই স্পষ্ট হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top