তারাতলা গুদাম বিপর্যয়ে তিন গ্রেপ্তার, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের দেড় ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের পদক্ষেপ

তারাতলা গুদাম বিপর্যয়ে তিন গ্রেপ্তার, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের দেড় ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের পদক্ষেপ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



কলকাতা – তারাতলার গুদাম বিপর্যয়ের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিল পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের মাত্র দেড় ঘণ্টার মধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম সৈয়দ মহম্মদ গুলজার, মহম্মদ আতাউল এবং সুভাষ চৌধুরী। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গুলজার ওই নির্মাণকাজের সুপারভাইজার ছিলেন। অন্যদিকে, আতাউল ও সুভাষ শ্রমিক সরবরাহের দায়িত্বে ছিলেন। বর্তমানে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং শ্রমিকদের উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

বুধবার দুপুর ১২টা ৭ মিনিট নাগাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে তারাতলার তিনতলা গুদাম ভবন। মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বহু শ্রমিক। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল উদ্ধারকাজের তদারকি করেন। অন্যদিকে, গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুপুর আড়াইটে নাগাদ মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয় এবং উদ্ধারকাজে সেনাবাহিনীর সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সেই অনুযায়ী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় সেনাবাহিনী। পাশাপাশি দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী সংস্থাও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজে নেমে পড়ে। ভার্টিকাল ড্রিলিং পদ্ধতিতে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খোঁজ শুরু হয়। ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর পাশাপাশি নামানো হয় দুটি স্নিফার ডগও।

রাতভর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব ও মুখ্যসচিব। উদ্ধারকার্যের অগ্রগতি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছেন প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।

এদিকে এসএসকেএম হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, গুদামে কর্মরত অধিকাংশ শ্রমিক বিহার ও মুঙ্গের এলাকার বাসিন্দা। ঠিক কতজন শ্রমিক দুর্ঘটনার সময় কাজ করছিলেন, তার সঠিক হিসাব জানতে লালবাজারকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক সরবরাহকারী সংস্থার প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে নিখোঁজ, উদ্ধার এবং আটকে থাকা শ্রমিকদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই লালবাজারের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নির্মাণ সংস্থা বেহেরা ব্রাদার্সের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তদন্তের অগ্রগতির মধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top