কলকাতা:
প্রায় দুই দশকের নির্বাসনের পর কলকাতায় ফিরে আবেগঘন বার্তা দিলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। শনিবার রবীন্দ্রসদনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি কলকাতার প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের অভিমান এবং ভালোবাসার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে সরব হয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তাঁর বিশ্বাস, অন্যায় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, কিন্তু চিরস্থায়ী নয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তসলিমা নাসরিন বলেন, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মানবিকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, বিজ্ঞানমনস্কতা, বাকস্বাধীনতা এবং নারী-পুরুষের সমানাধিকারের পক্ষে কথা বলে এসেছেন। সেই পথে চলতে গিয়ে বহু বাধা ও বিপদের মুখোমুখি হতে হলেও তাঁর আদর্শ বা বিশ্বাসের কোনও পরিবর্তন হয়নি বলেই জানান তিনি।
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে লেখিকা বলেন, সেখানে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি দাবি করেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে কথা বলায় এবং ধর্মীয় কুসংস্কারের সমালোচনা করায় বহু মুক্তচিন্তার লেখক, ব্লগার ও সমাজকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। প্রশ্ন তোলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
তসলিমা নাসরিন বলেন, ভয় দেখিয়ে প্রশ্ন থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। একজন প্রশ্নকারীকে হত্যা করা হলেও আরও অনেক মানুষ প্রশ্ন করতে এগিয়ে আসবেন। তাঁর মতে, যে সমাজ প্রশ্নকে দমন করে, সেই সমাজ নিজের ভবিষ্যৎকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, একদিন বাংলাদেশে রাষ্ট্র ও ধর্ম সম্পূর্ণ পৃথক হবে, নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবেন এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারবেন।




















