ফলতার প্রাক্তন বিধায়ক জাহাঙ্গির খান ঘনিষ্ঠ বিডিও শানু বক্সি অপসারিত, নবান্নের নির্দেশে বড় প্রশাসনিক রদবদল

ফলতার প্রাক্তন বিধায়ক জাহাঙ্গির খান ঘনিষ্ঠ বিডিও শানু বক্সি অপসারিত, নবান্নের নির্দেশে বড় প্রশাসনিক রদবদল

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – অপসারিত হলেন ফলতার প্রাক্তন বিধায়ক জাহাঙ্গির খান ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত বিডিও শানু বক্সি। নবান্নের নতুন নির্দেশিকায় তাঁকে বিডিও পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং স্টেট গেজেটিয়ার্স-এর ওএসডি পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, এই রদবদলের অংশ হিসেবে আরও কয়েকজন বিডিও-র পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

গত ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে শানু বক্সিকে ফলতায় বদলি করে আনা হয়েছিল। পরে বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তিনি মালদহের হরিশচন্দ্রপুর-১ ব্লকের বিডিও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, তাঁকে এখন প্রশাসনিক পর্যায়ে অন্য দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে।

একইসঙ্গে নদিয়ার কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের বিডিও রঞ্জন সর্দারকেও বদলি করে স্টেট গেজেটিয়ার্স বিভাগে ওএসডি হিসেবে পাঠানো হয়েছে। তাঁর জায়গায় নতুন বিডিও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গার্গী দাসকে। অন্যদিকে, ধ্রুবাশিস সামন্তকে ফলতা ব্লকের নতুন বিডিও হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে গত নির্বাচনী পর্বে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে বড় ব্যবধানে ভোটে এগিয়ে থাকার বিষয়টি নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়। বিজেপি নেতাদের একাংশ অভিযোগ তোলে যে ফলতার ভোটে অনিয়ম হয়েছে, যদিও সেই অভিযোগ শাসকদল বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহল মানতে চায়নি।

সেই সময় শানু বক্সি ও জাহাঙ্গির খানের কথোপকথন সংক্রান্ত কিছু স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। যদিও শানু বক্সি সেই অভিযোগ খারিজ করে দাবি করেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

এর পাশাপাশি শানু বক্সির বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, মালবাজারের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে তিনি যে জমি কিনেছিলেন, তা বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে কেনা হয়েছিল। যদিও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। শানু বক্সির মা শংকরী বক্সি জানিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং সঠিক তদন্ত হলে সত্য সামনে আসবে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রশাসনিক স্তরে এই রদবদলকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। নবান্নের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্য প্রশাসনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top