রাজ্য – বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) হিসেবে কর্মরত শিক্ষকদের উপর এবার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের জনগণনায় গণনাকারী হিসেবে তাঁদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই একাধিক জেলার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যেসব শিক্ষক আগে বিএলও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদেরই জনগণনার কাজে চিহ্নিত করে নিয়োগ করা হবে।
এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা নবান্ন থেকে জেলাশাসকদের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এরপর থেকেই বিভিন্ন জেলায় প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। প্রশাসনের মতে, জনগণনা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনগত ও জাতীয় কর্মসূচি। তাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, মাঠপর্যায়ের কাজ, তথ্য সংগ্রহ, তদারকি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের জন্য সময় সময় ডাকা হতে পারে।
আগামী ১ আগস্ট থেকে রাজ্যে জনগণনার কাজ শুরু হবে। ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সেলফ-এনুমারেশন বা স্ব-নিবন্ধনের সুযোগ থাকছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই গণনা প্রক্রিয়া ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এবারের জনগণনা সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে, যা এই কর্মসূচিকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলবে।
জনগণনা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে শিক্ষা দপ্তরের কাছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের নিয়মিত দায়িত্ব থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদেরও পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যাতে জনগণনার কাজে কোনও বাধা সৃষ্টি না হয়।
সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে— ১৮৫৫ এবং ০৩৩-২৩৩৫৯৫০৩। পাশাপাশি জনগণনা সংক্রান্ত তথ্য ও পরিষেবার জন্য সরকারি ওয়েবসাইটও চালু করা হয়েছে।
জনগণনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, জনগণনা একটি সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা। তাঁর দাবি, ২০১১ সালের পর দীর্ঘ সময় ধরে জনগণনা হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্যের প্রকৃত জনবিন্যাস এবং জনসংখ্যার তথ্য সংগ্রহের জন্য এই কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।




















