রাজ্য – বিজেপিকে ঠেকাতে তৃণমূল কংগ্রেসকে সঙ্গে নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। বরং তৃণমূলের বিকল্প শক্তিগুলিকে নিয়ে বিজেপি বিরোধী লড়াই আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন এবং রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে এভাবেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফের পাশাপাশি সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ দলকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্যবদ্ধ জোট তৈরি করা প্রয়োজন। তবে সেই জোটে তৃণমূলের কোনও জায়গা থাকা উচিত নয়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিরোধী শিবিরের ভোট ভাগাভাগি এবং সম্ভাব্য বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নওশাদকে একাধিক প্রশ্ন করা হয়। প্রশ্ন ওঠে, আইএসএফ, এনসিপিআই এবং কংগ্রেস যদি আলাদা আলাদা ভাবে নির্বাচনে লড়ে, তাহলে বিরোধী ভোট ভাগ হয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বিজেপিই কি তার সুবিধা পাবে না? পাশাপাশি প্রশ্ন করা হয়, আইএসএফ কি বাম এবং বিজেপি বিরোধী শক্তিগুলিকে নিয়ে একটি সুসংহত জোট চাইছে না?
এর জবাবে নওশাদ সিদ্দিকি স্পষ্ট জানান, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তৃণমূল এবং বিজেপি—দুই পক্ষই সামনে ছিল। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূল কার্যত অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে বলে দাবি তাঁর। তাঁর মতে, এখন মূল রাজনৈতিক লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধেই। বিজেপিকে আটকাতে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের জন্য তাঁরা সব সময় প্রস্তুত। তবে সেই লড়াইয়ে কারা থাকবে, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
নওশাদের বক্তব্য, বিজেপি বিরোধী লড়াইকে শক্তিশালী করতে হলে তৃণমূলকে বাদ দিয়ে বাম, কংগ্রেস, আইএসএফ-সহ সমস্ত ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে এক জায়গায় আসতে হবে। অর্থাৎ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী শিবিরের সম্ভাব্য জোটের সমীকরণে তৃণমূলকে পাশে না রেখে বৃহত্তর ধর্মনিরপেক্ষ ঐক্যের পক্ষেই সওয়াল করলেন ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক।




















