বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে রাজ্যপাল আর এন রবির মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, রাজ্যের পূর্বতন নীতির কড়া সমালোচনা

বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে রাজ্যপাল আর এন রবির মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক, রাজ্যের পূর্বতন নীতির কড়া সমালোচনা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের পূর্বতন সরকারের নীতি ও আদর্শ নিয়ে কড়া সমালোচনা করলেন রাজ্যপাল তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য আর এন রবি। কোনও রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে রাজ্যের অতীত প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা উঠে আসে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।

সমাবর্তন মঞ্চে রাজ্যপাল বলেন, স্বাধীনতার প্রাক্কালে বাংলা ছিল দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম কেন্দ্র। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সেই সময়ে দেশের জিডিপির একটি বড় অংশ বাংলার অর্থনীতি থেকেই আসত এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলি ছিল দেশের শিক্ষার আলোকবর্তিকা। তবে পরবর্তী সময়ে এক ‘ভ্রান্ত আদর্শ ও বিকৃত রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা’র কারণে রাজ্যের অবক্ষয় শুরু হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাজ্যপালের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে বাংলা একসময় অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়ে এবং পরনির্ভরশীল হয়ে যায়।

তবে একইসঙ্গে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে তুলনামূলকভাবে অনুকূল বলে উল্লেখ করেন এবং রাজ্যের শিক্ষা ও গবেষণার অগ্রগতির প্রশংসা করেন। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা সাফল্য বিশেষভাবে তুলে ধরে তিনি জানান, গত তিন বছরে বিশ্ববিদ্যালয়টি ২১টি পেটেন্ট অর্জন করেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নতুন জাতীয় শিক্ষানীতির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম শুধু চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং ভবিষ্যতে চাকরিদাতা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

রাজ্যপাল আরও আহ্বান জানান, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্যে বাংলার তরুণ ও নারী শক্তিকে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক বাধা অতিক্রম করে দেশের উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে হবে।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মান প্রদান করা হয়। ইসরোর চেয়ারম্যান ড. এস সোমনাথ, এম পি বিড়লা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের প্রাক্তন অধিকর্তা ড. দেবীপ্রসাদ দুয়ারী এবং এডিনবার্গ নেপিয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ড. বাসবী ফ্রেজার-কে বিভিন্ন ডি.এস.সি ও ডি.লিট উপাধিতে সম্মানিত করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন বিভাগে গবেষণার জন্য একাধিক অধ্যাপক ও গবেষককে সম্মান প্রদান করা হয় এবং ২০২৩ সাল থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও ডক্টরেট প্রাপকদের শংসাপত্র প্রদান করা হয়।

রাজ্যপালের এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য-রাজ্যপাল সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top