রাজ্য – এবার থেকে আবাসন দপ্তরের ফ্ল্যাট কিনলে আর লং টার্ম লিজে থাকতে হবে না, সরাসরি মালিকানা পাবেন ক্রেতারা। পাশাপাশি দপ্তরের অবিক্রিত ফ্ল্যাট বিক্রির ক্ষেত্রেও বদল আসছে নিয়মে। আর লটারির মাধ্যমে নয়, ‘ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভ’ ভিত্তিতে এই ফ্ল্যাটগুলি বিক্রি করা হবে। শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনই একাধিক ঘোষণা করলেন আবাসনমন্ত্রী দীপক বর্মন।
মন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ সালে লটারির মাধ্যমে আবাসনের জন্য নির্বাচিত হওয়ার পরও অনেকেই এখনও ফ্ল্যাট পাননি। তাঁদের সেই ফ্ল্যাট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে আবাসন দপ্তরের প্রায় ৩৭০টি ফ্ল্যাট অবিক্রিত রয়েছে। এগুলি আর লটারির মাধ্যমে নয়, আগে এলে আগে পাওয়ার ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে। তবে নতুন করে তৈরি হওয়া আবাসনের ক্ষেত্রে লটারির ব্যবস্থা থাকবে।
নতুন আবাসন প্রকল্পের পরিকল্পনাতেও একাধিক ঘোষণা করা হয়েছে। জলপাইগুড়ির বিন্নাগুড়িতে ৭ একর সরকারি জমিতে LIG ও MIG ক্যাটিগরির আবাসন বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিলিগুড়ির ডাবগ্রামে হাইওয়ের ধারে তৈরি হবে আটতলা MIG আবাসন। কলকাতার ঠাকুরপুকুরে ২২ একর জমিতে গড়ে উঠবে একটি টাউনশিপ। নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া-১-এ ১২টি প্লটে G+4 আবাসন তৈরি হবে, যেখানে সব মিলিয়ে থাকবে ৪৮টি ফ্ল্যাট।
অন্যদিকে, নিউ টাউনের অ্যাকশন এরিয়া-২-এ দীর্ঘদিন ধরে থমকে থাকা ‘সান রে’ HIG আবাসন প্রকল্পও এবার আবাসন দপ্তর নিজেদের হাতে নিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাবে। সেখানে প্রায় ৫০০টি ফ্ল্যাট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে রাজ্যে নতুন করে প্রায় ৩৫০০টি ফ্ল্যাট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় আবাসনের জন্য প্লটও বণ্টন করা হবে।
আবাসন দপ্তরের LIG ক্যাটিগরির ফ্ল্যাটের দাম প্রতি বর্গফুট ৪৫০০ টাকা এবং MIG ক্যাটিগরিতে প্রতি বর্গফুট ৫১০০ থেকে ৫৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওয়েস্ট বেঙ্গল রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি বা ‘রেরা’-কেও ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে একটি পোর্টাল চালু করা হবে। সেখানে অভিযোগ জানানোর পর শুনানির তারিখ, সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য পাওয়া যাবে।
শুধু আবাসন নয়, দপ্তরের অধীনে থাকা ইটভাটাগুলিরও হাল ফেরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রীর দাবি, ইটভাটাগুলি পুনরুজ্জীবিত করা গেলে সেখানে প্রায় ৬ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।




















