হাওড়া – টানা কয়েক দিনের প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন শিবপুর বিধানসভা। জল জমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার মানুষ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন ৯, ৪৭, ৪৯ ও ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। এই পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে রুদ্রনীল ঘোষ দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা, খারাপ রাস্তা-ড্রেন এবং অপরিকল্পিত পুর ব্যবস্থার কারণে নাগরিকদের ভোগান্তি চলছে।
রুদ্রনীলের অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সরকারের আমলে হাওড়া পুরনিগমের পরিষেবা ব্যবস্থায় দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে মানুষ বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০১৮ সাল থেকে হাওড়া কর্পোরেশনের নির্বাচন না হওয়ায় মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে। একটি রাস্তার কাজ তিন বার টেন্ডার করে দু’বারের টাকা চুরির মতো অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
রুদ্রনীল জানিয়েছেন, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করেছেন যে নতুন কাউন্সিলরদের মাধ্যমে মানুষকে পুর পরিষেবা দিতে ডিসেম্বরেই হাওড়া কর্পোরেশন নির্বাচন হওয়ার কথা। ততদিন এলাকার বিধায়কদের নিজেদের ওয়ার্ডে প্রয়োজনীয় পরিষেবার বিষয়ে দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁর। সেই অনুযায়ী কাজ এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন রুদ্রনীল।
তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিকাশি ব্যবস্থা, রাস্তা সংস্কার, পানীয় জল, ড্রেন ও ভ্যাট সংস্কারের পরিকল্পনা প্রায় শেষের পথে এবং বেশ কিছু কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। পুজোর আগে অনেকটা কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে, বাকি কাজ পুজোর পর করা হবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ১৫ বছরের অচলাবস্থা ৩-৪ মাসে পুরোপুরি কাটানো সম্ভব নয়, সময় লাগবে। তবে মানুষের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে যতটা সম্ভব দ্রুত পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
জলমগ্ন ওয়ার্ডগুলিতে গত কয়েক দিন ধরে পীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাহায্য ও ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন রুদ্রনীল। পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই এবং হাওড়া পুরনিগমের কর্মীদের কাজের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। বৃষ্টির দাপট কমে জমা জল সরলেই রাস্তা সংস্কার, নিকাশি, পানীয় জল, স্ট্রিট লাইট ও ভ্যাট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে দ্রুত কাজ হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন রুদ্রনীল।




















