সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, তবে জটিলতা ঘিরে অনিশ্চয়তা

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, তবে জটিলতা ঘিরে অনিশ্চয়তা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্ত এসেছে সুপ্রিম কোর্ট-এর নির্দেশ মেনে। তবে নির্ধারিত দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই সামনে আসছে একাধিক জটিলতা। এখনও সম্পূর্ণ তথ্য যাচাই শেষ হয়নি, উপরন্তু সার্ভার সমস্যার কারণে যাচাই প্রক্রিয়া শুরুর আগেই তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি তালিকা প্রকাশের কথা। কিন্তু এখনও লজিক্যাল ভুল বা তথ্যগত অসঙ্গতির পূর্ণাঙ্গ হিসেব তৈরি হয়নি বলে সূত্রের খবর। এসআইআর-এ নথি যাচাই ঠিকভাবে হচ্ছে কি না তা দেখতে কলকাতা হাই কোর্ট প্রতিটি জেলায় তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটিতে রয়েছেন জেলা বিচারক, জেলাশাসক এবং জেলা পুলিশ সুপার। জুডিশিয়াল অফিসারদের ৯ মার্চ পর্যন্ত সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং যাঁরা ছুটিতে ছিলেন তাঁদের দ্রুত কাজে যোগ দিতে বলা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই নথি যাচাই শুরু হওয়ার কথা।
তবে কাজ শুরুর আগেই তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের আইডি এখনও তৈরি করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। সার্ভার সমস্যার কারণেই এই বিলম্ব হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে যাচাই প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শুরু হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও কমিশনের দাবি, সোমবারের মধ্যেই সমস্যা মিটে যাবে এবং আধিকারিকরা ফোন নম্বর দিয়েই লগ ইন করতে পারবেন। বিধানসভা ভিত্তিক তালিকা ধরে প্রায় ১.৫ কোটি ভোটারকে যাচাই করার পরিকল্পনা রয়েছে। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, তাঁদের প্রধান লক্ষ্য একটি বিশুদ্ধ ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করা।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরেই বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। দোলের পর ভোটের দিন ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। তার আগেই বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী আনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বাহিনী মোতায়েন নিয়ে সোমবার বৈঠকে বসছে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তর। সেখানে রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতা পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক নিরাপত্তা আধিকারিক উপস্থিত থাকার কথা।
এই বৈঠকের আগেই মনোজ আগরওয়াল মন্তব্য করেছেন, “শান্তিপূর্ণ ভোটের জন্য যেখানে যে ওষুধের প্রয়োজন, সেখানে সেই ওষুধ পৌঁছে যাবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এখন নজর ২৮ ফেব্রুয়ারির দিকে—নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়েই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে পারে কি না, সেটাই দেখার।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top