ইরান যুদ্ধে ‘বিপুল জয়’-এর দাবি ট্রাম্পের, আরও হামলার হুঁশিয়ারি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

ইরান যুদ্ধে ‘বিপুল জয়’-এর দাবি ট্রাম্পের, আরও হামলার হুঁশিয়ারি ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিদেশ – ইরানের বিরুদ্ধে চলা যুদ্ধে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিপুল জয়’ হয়েছে বলে দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। বুধবার রাতে হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, মার্কিন সেনাবাহিনী তেহরানকে কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে এবং আগামী দু’-তিন সপ্তাহের মধ্যে আরও বড় আকারের হামলা চালানো হতে পারে।
ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন হামলায় ইরানের নৌবাহিনী প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে এবং বিমান বাহিনীও ভেঙে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ ক্ষমতা এখন অনেকটাই দুর্বল। এমনকি ইরানের একাধিক শীর্ষ নেতা নিহত হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে ইরানের নেতৃত্বকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এই ভাষণে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইঙ্গিত দেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, অভিযান এখন শেষের পথে, তবে ইরান যদি কোনও চুক্তিতে রাজি না হয়, তাহলে আরও ভয়াবহ হামলার মুখে পড়তে হবে। বিশেষ করে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিকে লক্ষ্য করে নতুন করে আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
এর আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। যদিও এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরানের বিদেশ মন্ত্রক, ফলে দুই দেশের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ সামনে এসেছে।
এক মাস ধরে চলা এই সামরিক অভিযানের নাম ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ বলেও উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ইজরায়েল ও পশ্চিম এশিয়ার অন্যান্য মিত্র দেশগুলির ভূমিকাকে ‘অসাধারণ’ বলে প্রশংসা করেছেন তিনি এবং জানিয়েছেন, এই দেশগুলিকে কোনওভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। ট্রাম্পের মতে, ইরানের একাধিক আক্রমণই প্রমাণ করে যে তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়।
জ্বালানি প্রসঙ্গেও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সৌদি আরব ও রাশিয়ার সম্মিলিত উৎপাদনের থেকেও বেশি তেল ও গ্যাস উৎপাদন করছে এবং খুব শিগগিরই তা আরও বাড়বে। তিনি স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল নয়।
সবশেষে, যেসব দেশ মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল, তাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বার্তা দেন—হরমুজ প্রণালী খোলা রাখা ও সুরক্ষিত রাখার দায়িত্ব এখন তাদেরই নিতে হবে। এমনকি তিনি আহ্বান জানান, প্রয়োজনে সেই অঞ্চল দখল করে তা রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসতে।
এই ভাষণের পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন নজরে রাখছে গোটা বিশ্ব।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top