রাজ্য – বিধানসভা ভোটের আগে ফের ভোটার তালিকা নিয়ে বড়সড় বিতর্ক সামনে এল পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে। Election Commission of India-এর প্রস্তুতি নিয়েই উঠছে প্রশ্ন, কারণ একটি বুথের সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় দেখা গেল চরম অসঙ্গতি—বাবার বয়স ৩০ বছর, অথচ তাঁর দুই মেয়ের বয়স ৩৫ বছর!
ঘটনাটি ভাতার গার্লস হাইস্কুলের ১১৪ নম্বর বুথের। ভাতার বাজারের সারদা পল্লির বাসিন্দা মহম্মদ শওকত হোসেন, যিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী, তাঁর বয়স তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে ৩০ বছর। অথচ তাঁর দুই মেয়ে—সহেলি শবনম ও গুলশিশ শবনমের বয়স দেখানো হয়েছে ৩৫ বছর। এই অস্বাভাবিক তথ্য সামনে আসতেই প্রশাসনিক ত্রুটি নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে।
শুধু বয়সের গরমিলই নয়, একই বুথে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে। দেবযানী সুলতানা নামে এক ভোটার অভিযোগ করেছেন, তিনি স্বাস্থ্য দফতরে ৩০ বছরেরও বেশি সময় কাজ করেছেন এবং পাসপোর্ট-সহ মোট ১১টি নথি জমা দেওয়ার পরেও তাঁর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
২০২৫ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী, ওই বুথে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৯৭৭ জন। প্রথম দফায় ২৫ জনের নাম বাদ যায়, পরে আরও দুজন বাদ পড়েন। বিচারাধীন তালিকায় ছিলেন ৪৩ জন। পরবর্তীতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় মাত্র তিনজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়—সহেলি শবনম, গুলশিশ শবনম ও মহম্মদ শওকত হোসেন।
এই প্রসঙ্গে বুথ লেভেল অফিসার (BLO) অরুণ হাটি জানিয়েছেন, শওকত হোসেন ও তাঁর দুই মেয়ের নাম আগে বিচারাধীন তালিকায় ছিল এবং পরে তাঁরা নথিপত্র জমা দেন। তিনি স্বীকার করেছেন, শওকত হোসেন আসলে ষাটের ঊর্ধ্বে একজন পেনশনভোগী। কীভাবে তাঁর বয়স তালিকায় ৩০ বছর দেখানো হয়েছে, তা নিয়ে তিনি নিজেও স্পষ্ট নন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে।
এই ঘটনার জেরে ভোটের আগে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ভুল শুধুমাত্র প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং ভোট প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার উপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।



















