কলকাতা – বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র করল বিজেপি। রাজ্যস্তরের সংকল্পপত্র এখনও প্রকাশ না হলেও মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee-এর আসন ভবানীপুরকে কেন্দ্র করে আলাদা ইস্তাহার প্রকাশ করে চমক দিলেন বিরোধী দলনেতা Suvendu Adhikari। ‘বিকশিত ভবানীপুর’ নামের এই বিশেষ রূপরেখায় স্থানীয় সমস্যাগুলিকে সামনে এনে চার দফা প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে বিজেপি স্পষ্ট বার্তা দিল—এই কেন্দ্র দখল করতেই তারা মরিয়া।
বৃহস্পতিবার ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন জমা দেবেন শুভেন্দু অধিকারী। তার আগেই এই পৃথক ইস্তাহার প্রকাশ রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-এর উপস্থিতিতে রোড শো করে মনোনয়ন জমা দেবেন তিনি, যা এই লড়াইয়ের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
‘বিকশিত ভবানীপুর’ ইস্তাহারে চারটি মূল প্রতিশ্রুতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে—পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলার জোরদারকরণ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং যুবকল্যাণ। এলাকার প্রতিটি বাড়িতে নলবাহিত বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেহাল রাস্তার সংস্কার, উন্নত সড়ক নির্মাণ এবং আধুনিক জলনিকাশি ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
কলকাতায় বর্ষার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনাকে সামনে রেখে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলিতে উন্নত পরিষেবা নিশ্চিত করা এবং ‘দালালমুক্ত’ পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের জন্যও আলাদা বার্তা রয়েছে এই ইস্তাহারে। গয়নার দোকানে হামলা, তোলাবাজি ও ভয়ভীতির রাজনীতি বন্ধ করে নিরাপদ ব্যবসার পরিবেশ গড়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অবৈধ নির্মাণ, জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পুলিশি ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জোর দিয়ে বলা হয়েছে।
এছাড়াও আদিগঙ্গার সংস্কার করে ঘাটগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা, কালীঘাটের কুমোর ও মৃৎশিল্পীদের জন্য বিশেষ সহায়তা এবং ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় স্থানগুলিকে রাজনীতির বাইরে রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে। যুব সমাজের জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট কর্মসূচি ও নেশামুক্ত সমাজ গঠনের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে এই পরিকল্পনায়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, বিজেপি ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করে শাসক দলকে আক্রমণ করেছে। তবে সংকল্পপত্র প্রকাশের আগেই একটি নির্দিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য আলাদা ইস্তাহার প্রকাশ—এমন কৌশল এই প্রথম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শুভেন্দুর লড়াইকে বিজেপি যে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, এই পদক্ষেপে তা স্পষ্ট।



















