রাজ্য – ভোটের আবহে রাজ্যে ফের বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। বুধবার বিকেলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি করা হল মোট ১২ জন আইপিএস আধিকারিককে। এই সিদ্ধান্তে কলকাতা পুলিশ, বিধাননগর, হাওড়া, চন্দননগর ও শিলিগুড়ি কমিশনারেট-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিডি স্পেশাল) বিদিত রাজ ভুন্দেশকে ইস্ট ডিভিশনের ডিসি পদে স্থানান্তর করা হয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব ডিভিশনের নতুন ডেপুটি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রভীন প্রকাশ, যিনি এতদিন ব্যারাকপুরের এসএসএফ ব্যাটেলিয়নের কমান্ডেন্ট ছিলেন। কলকাতা পুলিশের ফার্স্ট ব্যাটেলিয়নের ডেপুটি কমিশনার করা হয়েছে সিআইডির অফিসার জে মার্সিকে। পাশাপাশি, সেকেন্ড ব্যাটেলিয়নের ডিসি পদে আনা হয়েছে এসএসআইবি-র দেবাশীষ নন্দীকে।
বিধাননগর কমিশনারেটেও গুরুত্বপূর্ণ রদবদল হয়েছে। ডিসি ট্রাফিক মাক্বনা মিত কুমার সঞ্জয় কুমারকে বদলি করে বিধাননগর ডিভিশনের ডিসি পদে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাফিক বিভাগের ডেপুটি কমিশনার পদে দায়িত্ব পেয়েছেন অরিশ বিতাল। সুন্দরবন পুলিশ জেলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পাঠানো হয়েছে চন্দন ঘোষকে, যিনি এতদিন বিধাননগরে অতিরিক্ত ডিসি (ডিডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
হাওড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও একাধিক বদলি করা হয়েছে। হাওড়ার ডিসিডিডিটি কল্যাণ সিংহ রায়কে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসিএসবি পদে পাঠানো হয়েছে। চন্দননগর কমিশনারেটের ডিসি (হেডকোয়ার্টার) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ইন্দ্রজিৎ সরকার, যিনি আগে এসটিএফ-এ সুপার পদে ছিলেন। উত্তরবঙ্গের এসএসআইবি থেকে উমেশ গণপতকে চন্দননগরের ডেপুটি কমিশনার করা হয়েছে।
এছাড়াও, আসানসোলের ডিসিএসবি রানা মুখার্জিকে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি পদে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই রদবদলের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ প্রশাসনিক ইউনিটে নতুন করে ভারসাম্য আনার চেষ্টা করেছে নির্বাচন কমিশন।
উল্লেখ্য, এর আগেও ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরপরই একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে বদলির নির্দেশ দেয় কমিশন। রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, ডিজি পুলিশ এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার-সহ শীর্ষ প্রশাসনে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছিল। একইসঙ্গে ১২টি জেলার পুলিশ সুপারদেরও সরানো হয়, যার মধ্যে ছিল বারাসত, কোচবিহার, বীরভূম, ইসলামপুর, হুগলি রুরাল, ডায়মন্ড হারবার, মুর্শিদাবাদ, বসিরহাট, মালদহ, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং জঙ্গিপুর।
এই ধারাবাহিক রদবদলকে ঘিরে স্পষ্ট, আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।



















