ইসলামাবাদে ভেস্তে শান্তি আলোচনা, ইরানকে লক্ষ্য করে ‘সীমিত হামলা’র ভাবনায় ট্রাম্প—মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

ইসলামাবাদে ভেস্তে শান্তি আলোচনা, ইরানকে লক্ষ্য করে ‘সীমিত হামলা’র ভাবনায় ট্রাম্প—মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের আশঙ্কা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


বিদেশ – ইসলামাবাদে ভেস্তে গেল ইরান ও আমেরিকার মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত শান্তি আলোচনা। দীর্ঘ সময় ধরে চলা বৈঠক সত্ত্বেও দুই পক্ষই যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেনি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ফের উত্তেজনা তীব্র আকার নিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—শেষ পরিণতি কি তবে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ? এরই মাঝে সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সূত্রের খবর, আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর পুনরায় সীমিত আকারে সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন। এই সম্ভাবনার কথা সামনে আসতেই নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে কূটনৈতিক মহলে। মার্কিন প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ‘সীমিত হামলা’ চালানোর বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, এই ধরনের চাপ সৃষ্টি করলে ইরানকে ফের আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য ইসলামাবাদের বৈঠকের পর তৈরি হওয়া অচলাবস্থা ভাঙা এবং নতুন করে শান্তি প্রক্রিয়ায় গতি আনা। তবে এই কৌশল সফল হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান বিশ্লেষকদের একাংশ। কারণ সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে বলেই আশঙ্কা।
উল্লেখ্য, শনিবার দীর্ঘ প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠকের পর মার্কিন উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে জানান, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। তাঁর কথায়, কিছু ক্ষেত্রে আংশিক বোঝাপড়া তৈরি হলেও মূল ইস্যুগুলিতে দুই দেশের অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতপার্থক্যই আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আমেরিকা চাইছিল, তেহরান স্পষ্টভাবে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিক, কিন্তু সেই শর্ত মানতে রাজি হয়নি ইরান।
অন্যদিকে ইরানও নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছে। তারা জানিয়েছে, সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরানো হবে না। ফলে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ঘিরেও অনিশ্চয়তা বাড়ছে, যা বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, ব্যর্থ শান্তি আলোচনা ও সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়ছে। এখন নজর আন্তর্জাতিক কূটনীতির পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে—সংঘাত কি মিটবে, নাকি বিশ্ব আরও এক বড় যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে, সেটাই দেখার।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top