রাজ্য – লক্ষ্য আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন। বিপুল আসনে জয় নিশ্চিত করে চতুর্থবার ক্ষমতায় ফিরতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল কংগ্রেস। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে শুরু করে কর্মী-সমর্থক—সবাই এখন প্রচারে ব্যস্ত। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রার্থীরা নিজেদের এলাকায় প্রচার চালানোর পাশাপাশি তাদের সমর্থনে উত্তর থেকে দক্ষিণ ছুটে বেড়াচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রথম দফার নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় প্রচারে গতি আরও বেড়েছে। সোমবার তৃণমূল সুপ্রিমো তিনটি জনসভা এবং একটি পদযাত্রায় অংশ নেবেন। একই দিনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও তিনটি জনসভা করবেন। জানা গিয়েছে, সিউড়ি, আউশগ্রাম, গলসি, দুর্গাপুর পূর্ব ও পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনে সভা করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি বাঁকুড়া কেন্দ্রেও একটি পদযাত্রায় অংশ নেবেন তিনি। অন্যদিকে করিমপুর, রানাঘাট উত্তর ও পশ্চিম এবং বাদুড়িয়া কেন্দ্রে জনসভা করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই তৃণমূলের প্রচারে বাড়ছে তীব্রতা। প্রতিটি জনসভা থেকেই উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরার পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ এবং বাঙালির প্রতি অবহেলার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হচ্ছে। বিজেপিকে বাংলায় শূন্য করার হুঁশিয়ারিও শোনা যাচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্বের কণ্ঠে।
অন্যদিকে বিজেপিও পিছিয়ে নেই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এদিন বীরভূমের বোলপুর ও খয়রাশোলে সভা করবেন। পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমানেও একটি জনসভা ও রোড শোতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। বাংলা দখলের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছে গেরুয়া শিবির। কখনও প্রধানমন্ত্রী, কখনও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আবার কখনও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ—বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বদের ধারাবাহিক উপস্থিতিতে জমে উঠছে নির্বাচনী লড়াই।
ভোট যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। প্রতিটি দলই নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া। আসন সংখ্যা বাড়ানোই এখন সব দলের মূল লক্ষ্য, আর সেই লক্ষ্যেই জোরকদমে চলছে প্রচারযুদ্ধ।



















