রাজ্য – সংসদের অন্দরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণের বদল কি বাংলার ভোট রাজনীতিতেও নতুন বার্তা দিচ্ছে? সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় ভেস্তে যাওয়ার পর থেকেই কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস-এর মধ্যে বাড়তে থাকা ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
শুক্রবার বিলটি মুখ থুবড়ে পড়ার পরই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ফোনে কথা বলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে। দীর্ঘ এই কথোপকথনের পর থেকেই দুই দলের সম্পর্কের উষ্ণতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। শনিবার সেই জল্পনায় যেন আরও সিলমোহর পড়ে।
কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, দলের শীর্ষ নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ফোন করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁকে ধন্যবাদ জানান। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এদিন সংসদে ইন্ডিয়া জোট-এর বৈঠকে তৃণমূলের উপস্থিতি এবং তাদের প্রতি কংগ্রেসের উষ্ণ ব্যবহার রাজনৈতিক বার্তাকে আরও স্পষ্ট করে দেয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে-র ঘরে আয়োজিত এই বৈঠকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন দলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়ান এবং লোকসভার মুখ্য সচেতক কাকলি ঘোষ দস্তিদার।
বৈঠকের শুরুতেই সোনিয়া গান্ধীর মন্তব্যের পর ডেরেক ও’ব্রায়ানের প্রতিক্রিয়া এবং উপস্থিতদের হাততালি পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে। তিনি ইঙ্গিত দেন, ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক সাফল্যের দিকে এগোচ্ছে বিরোধী জোট। তাঁর বক্তব্যে সমর্থন জানান প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ অন্যান্য নেতারাও।
এদিন বৈঠকে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকের প্রস্তাব উঠলেও, ডেরেক প্রস্তাব দেন যে প্রতিটি দল আলাদা করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হোক। সেই প্রস্তাবে সকলেই সম্মতি দেন। পাশাপাশি তৃণমূলের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়—পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস যদি সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানায়, তাহলে তার ফায়দা তুলতে পারে বিজেপি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিবর্তিত সমীকরণ যদি বজায় থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের বাংলা বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী রাজনীতির রূপরেখা আমূল বদলে যেতে পারে। বিজেপি-বিরোধী ভোট একত্রিত করার লক্ষ্যে কংগ্রেস-তৃণমূলের এই সম্ভাব্য সমঝোতা বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।




















