রাজ্য – মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের তদন্তে নতুন সূত্র পেল পুলিশ। তদন্তকারীদের হাতে উঠে এসেছে খুনে ব্যবহৃত সন্দেহভাজন চারচাকা গাড়ির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়িটি ঝাড়খণ্ডের এবং ঘটনার দিন সেটি বালি টোল প্লাজা পেরিয়ে মধ্যমগ্রামে ঢুকেছিল। সেই সময় ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টোল কাটা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীরা এখন সেই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মালিকের খোঁজ শুরু করেছেন, যেখান থেকে টোলের টাকা দেওয়া হয়েছিল। পুলিশের অনুমান, এই খুন পরিকল্পনা করেই করা হয়েছে এবং অন্তত দেড় মাস আগে থেকেই তার ছক কষা হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যে গাড়িটি চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির সামনে এসে পথ আটকায়, সেটিই বর্তমানে তদন্তের মূল কেন্দ্রে। বালি টোল প্লাজার সিসিটিভি ফুটেজ এবং টোল সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখে গাড়িটির গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
শুধু গাড়ির সূত্র নয়, ঘটনার সময় এলাকার ফোন টাওয়ারের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুনের এক ঘণ্টা আগে ও পরে কোন কোন নম্বর থেকে কোথায় ফোন করা হয়েছিল বা কোন এলাকা থেকে ফোন এসেছে, তার পূর্ণ তালিকা তৈরি করছে পুলিশ। তদন্তকারীদের মতে, এই কল ডিটেলস থেকেই খুনের সঙ্গে জড়িতদের অবস্থান ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে।
ইতিমধ্যেই তদন্তে গতি আনতে পুলিশের একটি বিশেষ দল উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় গিয়েছে। স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে সেখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
এখনও পর্যন্ত তদন্তে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, দীর্ঘদিন ধরেই চন্দ্রনাথ রথকে টার্গেট করা হয়েছিল। ফলে খুনের নেপথ্যে ব্যক্তিগত শত্রুতা, রাজনৈতিক কারণ নাকি অন্য কোনও বড় চক্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ এখন বিশেষভাবে নজর দিচ্ছে গত দেড় মাসে চন্দ্রনাথ রথের সঙ্গে কারও বড় ধরনের বিবাদ বা সংঘাত হয়েছিল কি না, সেই দিকেও। তদন্তকারীদের মতে, খুনের মোটিভ স্পষ্ট হলেই গোটা রহস্যের জট অনেকটাই খুলে যেতে পারে।
ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলেও ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সহযোগীর এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে দ্রুত অগ্রগতি আনতে একাধিক দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




















