রাজ্য – ১৫ বছরের শাসনের অবসানের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চাপা ক্ষোভ এবার ক্রমশ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। ক্ষমতার হাতবদলের পর থেকেই দলের অন্দরমহলে একের পর এক অসন্তোষের সুর সামনে আসছে। ‘কর্পোরেট কালচার’, আইপ্যাকের প্রভাব এবং নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছেন একাধিক নেতা। এবার সেই তালিকায় নাম লেখালেন দলের বর্ষীয়ান নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
তৃণমূলের দীর্ঘদিনের এই নেতা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, দলের ভিতরে পরিবর্তন প্রয়োজন। তাঁর কথায়, “অভিষেকের অনেক বুদ্ধি আছে, তবে পরিবর্তন আনা দরকার।” এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
দলের উত্থানপর্ব থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকা অন্যতম মুখ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০১ সাল থেকে তিনি বিধায়ক ছিলেন এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শ্রীরামপুর কেন্দ্র থেকে টানা চারবার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। দলের ভরাডুবির পর এবার প্রকাশ্যেই দলের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হলেন তিনি।
কল্যাণ বলেন, “উত্থান হলে পতন হবেই, এটা যেমন সত্যি, তেমনই এটাও সত্যি যে ক্ষমতা হাতে এলে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। আমিত্বে ডুবে গেলে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। আমরা ভাল ছিলাম না বলেই হয়তো মানুষ আমাদের সরিয়ে দিয়েছে।”
দলের প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, “রণকৌশলে কোনও ঘাটতি ছিল না। যাঁরা অযোগ্য, তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যাঁরা টিকিট পাননি, তাঁরাই চক্রান্ত করেছে। বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে দলটাকে শেষ করে দিয়েছে।”
সবচেয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য আসে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাককে ঘিরে। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “২০২১ সাল থেকেই বলে আসছি, আইপ্যাক একটা সিরিয়াস ইস্যু। আইপ্যাকের লোকজনই সবচেয়ে বেশি সর্বনাশ করেছে। সংগঠনের দুর্বলতার সবচেয়ে বড় কারণ আইপ্যাক।”
একইসঙ্গে রাজনৈতিক কৌশলবিদ প্রশান্ত কিশোরকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। কল্যাণের বক্তব্য, “প্রশান্ত কিশোর সুযোগসন্ধানী। উনি থাকলে দলটা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত। প্রশান্ত কিশোরের মতো মানুষ ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর কাঠামো নষ্ট করেছে। দুর্ভাগ্যবশত আমাদের নেতারা ওঁর উপর ভরসা করেছিলেন।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলের ভিতরে যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ জমছিল, ক্ষমতা হারানোর পর তা একে একে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে আইপ্যাক, নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত এবং সংগঠনের কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকায় দলের অন্দরে চাপ আরও বাড়ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও প্রকাশ্যে এই মন্তব্যগুলিকে গুরুত্ব দিতে চাইছে না। তবে দলের একের পর এক প্রবীণ নেতার মুখে অসন্তোষের সুর ঘাসফুল শিবিরের অস্বস্তি যে বাড়াচ্ছে, তা স্পষ্ট।




















