বিদেশ – ইরানের পাঠানো শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতীয় সময় সোমবার ভোররাতে নিজের ব্যক্তিগত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই প্রস্তাব “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” এবং তা তিনি খারিজ করছেন। একইসঙ্গে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারিও দেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, যুদ্ধবিরতির নামে আমেরিকার উপর কঠোর শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তার পরিণতি ভাল হবে না।
জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে এই শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। বর্তমানে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন এবং তেহরান—দু’পক্ষই সম্ভাব্য শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
ইরানের একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, আমেরিকার কাছে চার দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে তেহরান। প্রথমত, যুদ্ধ শুধুমাত্র সাময়িকভাবে নয়, স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে হামলা চালানো হবে না—এই মর্মে আমেরিকাকে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, এতদিনের সংঘর্ষে ইরানের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ আমেরিকাকে বহন করতে হবে। তৃতীয়ত, ইরানকে ইসলামিক রিপাবলিক হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও মর্যাদা দিতে হবে। চতুর্থত, শুধু ইরান নয়, লেবাননের উপরেও হামলা বন্ধ করতে ইজরায়েলের উপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।
এদিকে পাকিস্তানও এই সংঘাত থামাতে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে ইসলামাবাদ ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে যে প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছিল, তাতে ইউরেনিয়ামের ভান্ডার অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির যাবতীয় কর্মসূচি বন্ধ করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে কোনও বাধা সৃষ্টি না করার বিষয়েও শর্ত দেওয়া হয়েছিল।
তবে সূত্রের খবর, ইরানের পাল্টা চিঠিতে হরমুজ প্রণালী নিয়ে স্পষ্টভাবে কোনও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি। বরং দেশের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় আমেরিকার কাছ থেকে নিশ্চয়তা চেয়েছে তেহরান। একইসঙ্গে ইউরেনিয়ামের ভান্ডার বা পরমাণু কর্মসূচি বন্ধের বিষয়েও কোনও অঙ্গীকার করেনি ইরান। আর এতেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প বলে আন্তর্জাতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও বাড়ছে উদ্বেগ। এখন নজর, আগামী দিনে আমেরিকা এবং ইরানের অবস্থান কোন দিকে মোড় নেয় তার উপর।




















