দুর্গাপুজোর আগে মাটির সংকটে কুমোরটুলি, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি শিল্পীদের

দুর্গাপুজোর আগে মাটির সংকটে কুমোরটুলি, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি শিল্পীদের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


রাজ্য – দুর্গাপুজোর আর মাত্র চার থেকে সাড়ে চার মাস বাকি। তার আগেই বড় সমস্যার মুখে পড়েছেন কুমোরটুলির প্রতিমাশিল্পীরা। এঁটেল মাটির জোগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে শিল্পীমহলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সরাসরি হস্তক্ষেপের আবেদন জানাল ক্যানেল ইস্ট রোড মৃৎশিল্পী সমিতি।
সমিতির তরফে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, রায়চক, জীবনতলা এবং ডায়মন্ড হারবার এলাকা থেকে এঁটেল মাটি কাটা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। ফলে প্রয়োজনীয় মাটি সংগ্রহ করা যাচ্ছে না এবং প্রতিমা তৈরির কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর জেরে বহু শিল্পী ও শ্রমিক আর্থিক সংকটের মুখে পড়ছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে। দ্রুত সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন মৃৎশিল্পীরা।
কলকাতা ও আশপাশের বহু পুজো কমিটি বছরের পর বছর কুমোরটুলি থেকেই প্রতিমা নিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই কয়েক মাস আগে থেকেই বায়না হয়ে যায়। জানুয়ারি মাস থেকেই শিল্পীদের ঘরে ঘরে শুরু হয়ে যায় প্রতিমা তৈরির কাজ। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দুর্গাপুজোর সংখ্যা বাড়ায় কাজের চাপও বেড়েছে। শুধু কলকাতা নয়, জেলার বহু শিল্পীও এই সময় কুমোরটুলিতে এসে কাজ করেন।
সকালে থেকেই কেউ মাটি মাখার কাজে ব্যস্ত থাকেন, কেউ আবার প্রতিমার গায়ে মাটির প্রলেপ দেন। বর্ষার আগেই প্রতিমার বেশিরভাগ কাজ এগিয়ে রাখার চেষ্টা করেন শিল্পীরা। কিন্তু হঠাৎ করেই মাটির জোগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো কাজের গতি থমকে গিয়েছে।
শিল্পী সুবল পাল বলেন, “এই মাটি না এলে কোনওভাবেই পুজো কমিটির হাতে সময়মতো প্রতিমা তুলে দিতে পারব না।” অন্যদিকে শিল্পী নবকুমার পাল জানান, আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিমা মণ্ডপে পাঠানোই কঠিন হয়ে পড়বে।
বড় শিল্পীদের কাছে কিছু মাটি মজুত থাকলেও তাতেও টান পড়তে শুরু করেছে। ছোট শিল্পীদের অনেকের ঘরেই এখন কার্যত কাজের মতো মাটি নেই। এর পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে। কারণ, বহু শিল্পীর ঘরে বাইরের শ্রমিক ও কারিগররা দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করেন। কাজ বন্ধ থাকলে তাঁরা অন্যত্র কাজের খোঁজে চলে যেতে পারেন। তখন পরে মাটি এলেও দক্ষ কর্মীর অভাবে নতুন সমস্যা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পীরা।
অনেক শিল্পীকেই এখন কর্মীদের ধরে রাখতে নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ফলে আর্থিক চাপও বাড়ছে। তবু শিল্পীদের আশা, রাজ্য সরকার দ্রুত সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসবে।
করোনা অতিমারির সময়ও দুর্গাপুজো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে সমস্ত বিধিনিষেধের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত পুজো হয়েছিল ধুমধাম করেই। এবারও সব বাধা কাটিয়ে আশ্বিনের শারদপ্রাতে দেবীর আরাধনা যথারীতি হবে বলেই আশাবাদী কুমোরটুলির শিল্পীরা।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top