রাজ্য – নিউ চণ্ডীগড়ের নিউ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার আইপিএলের গুরুত্বপূর্ণ এলিমিনেটর ম্যাচে ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালাল রাজস্থান রয়্যালস। বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশীর ২৮ বলে অবিশ্বাস্য ৯৭ রানের ইনিংস এবং ধ্রুব জুরেলের ঝোড়ো অর্ধশতরানের সৌজন্যে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪৩ রানের পাহাড়প্রমাণ স্কোর তোলে রিয়ান পরাগের দল। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। জোফ্রা আর্চারের আগুনে বোলিংয়ের সামনে কার্যত ভেঙে পড়ে প্যাট কামিন্সদের ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত ১৯৬ রানে গুটিয়ে যায় হায়দরাবাদ। এই জয়ের ফলে রাজস্থান রয়্যালস উঠে গেল কোয়ালিফায়ার ২-এ, যেখানে ২৯ মে মুল্লানপুরে তাদের প্রতিপক্ষ গুজরাত টাইটানস। সেই ম্যাচের জয়ী দল ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে খেলবে।
টস জিতে প্রথমে রাজস্থানকে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হায়দরাবাদ অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত দলের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ইনিংসের শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে দেখা যায় বৈভব সূর্যবংশীকে। মাত্র ১৬ বলেই অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। কামিন্সের এক ওভারেই ২৫ রান তুলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তরুণ ব্যাটার। পাওয়ার প্লের মধ্যেই রাজস্থান পৌঁছে যায় ৮০ রানে। চারদিকে ছক্কার বৃষ্টি নামিয়ে হায়দরাবাদের বোলারদের কার্যত দিশেহারা করে দেন বৈভব।
মাত্র ২৮ বলে ১২টি ছক্কা ও পাঁচটি চারের সাহায্যে ৯৭ রান করে থামেন বৈভব সূর্যবংশী। শতরান থেকে মাত্র তিন রান দূরে থাকতেই প্রফুল্ল হিঙ্গের বলে আউট হন তিনি। তাঁর বিদায়ের কিছুক্ষণ পর ২৯ রান করে ফিরে যান যশস্বী জয়সোয়ালও। তবে এরপরও রান তোলার গতি কমেনি রাজস্থানের। ধ্রুব জুরেল ও অধিনায়ক রিয়ান পরাগ তৃতীয় উইকেটে ঝোড়ো পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। জুরেল মাত্র ২১ বলে ৫০ রান করেন, অন্যদিকে রিয়ান পরাগ ১২ বলে ২৬ রানের ক্যামিও খেলেন। শেষদিকে কিছু উইকেট দ্রুত পড়লেও ২৪৩ রানের বিশাল স্কোর গড়ে ফেলে রাজস্থান রয়্যালস।
হায়দরাবাদের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন প্রফুল্ল হিঙ্গে। তিনি চার ওভারে ৫৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। তবে দলের অন্য বোলাররা রাজস্থানের ব্যাটিং আগ্রাসনের সামনে কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন।
২৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় বলেই বড় ধাক্কা খায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। অভিষেক শর্মাকে শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন জোফ্রা আর্চার। এরপর স্মরণ রবিচন্দ্রনও দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। যদিও ঈশান কিশান পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেছিলেন। মাত্র ১১ বলে ৩৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। কিন্তু আর্চারের গতির সামনে তিনিও টিকতে পারেননি। ট্র্যাভিস হেডও ১৭ রান করে আউট হন আর্চারের বলেই। মাত্র ৪.৪ ওভারে ৫৭ রানে চার উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় হায়দরাবাদ।
এরপর হেনরিখ ক্লাসেন, নীতীশ কুমার রেড্ডি এবং সলিল আরোরা কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে দল। নীতীশ ৩৮ রান করে আউট হন। অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও মাত্র ১ রান করে ফিরে যান। শেষদিকে সলিল আরোরা ২১ বলে ৩৫ রান করলেও তাতে হারের ব্যবধানই শুধু কমে। শেষ পর্যন্ত ১০ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রানেই থামে হায়দরাবাদের ইনিংস।
জোফ্রা আর্চার এই ম্যাচে বল হাতে দুরন্ত পারফরম্যান্স করেন। তাঁর আগুনে স্পেলেই হায়দরাবাদের টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে। ব্যাট হাতে বৈভব সূর্যবংশীর বিস্ফোরক ইনিংস এবং বল হাতে আর্চারের দাপটেই বড় জয় তুলে নিল রাজস্থান রয়্যালস।




















