রাজ্য – দক্ষিণবঙ্গ-সহ গোটা রাজ্যে ক্রমশ তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং অস্বস্তিকর গরমের পরিস্থিতির মধ্যে পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে আগামী দু’সপ্তাহ সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে সকালের শিফটে পঠনপাঠন চালানোর জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নবান্ন ও বিকাশ ভবন সূত্রে জানানো হয়েছে, ছাত্র-ছাত্রীদের শারীরিক সুস্থতা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শক বা ডিআইদের কাছে এই মর্মে নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে।
সোমবার গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর স্কুল খুলতেই শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলার আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী স্কুল কর্তৃপক্ষ নিজেদের সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারবে। গরমের তীব্রতা বিবেচনা করে প্রয়োজনে সকালেই ক্লাস শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, এই ব্যবস্থা মূলত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির জন্য প্রযোজ্য হবে। কোন এলাকায় কোন সময় ক্লাস পরিচালনা করা সবচেয়ে উপযুক্ত হবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট জেলার স্কুল পরিদর্শকদের উপর ন্যস্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরে তীব্র দাবদাহের কারণে প্রথমে ১১ মে থেকে ১৬ মে পর্যন্ত গরমের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে আবহাওয়ার পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ মে পর্যন্ত করা হয়। পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী ১ জুন থেকে পুনরায় স্কুল খোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে স্কুল খুললেও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এখনও গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আবার স্কুল বন্ধ করে দিলে পড়াশোনার ক্ষতি এবং সিলেবাস সম্পূর্ণ করতে সমস্যার আশঙ্কা ছিল। তাই শিক্ষার স্বাভাবিক গতি বজায় রেখে এবং একইসঙ্গে পড়ুয়াদের গরমের হাত থেকে সুরক্ষা দিতেই স্কুলগুলিকে মর্নিং শিফটে ক্লাস চালানোর পরামর্শ দিয়েছে শিক্ষা দফতর।
শিক্ষা মহলের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে একদিকে যেমন পড়ুয়াদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে, তেমনই অন্যদিকে শিক্ষাবর্ষের নির্ধারিত পাঠক্রমও স্বাভাবিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।




















