দেশ – সিবিএসই-র অনস্ক্রিন মার্কিং সিস্টেম (OMS) ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্কের আবহে কড়া পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল সিবিএসই চেয়ারম্যান রাহুল সিং এবং সচিব হিমাংশু গুপ্তাকে। পাশাপাশি অনস্ক্রিন মার্কিং পরিষেবার টেন্ডার ও ক্রয় প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
সিবিএসই চেয়ারম্যান হিসেবে রাহুল সিং বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা, শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন, একাডেমিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজও দেখতেন তিনি। অন্যদিকে সচিব হিমাংশু গুপ্তার দায়িত্ব ছিল প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয়গুলির তদারকি করা। দেশজুড়ে সিবিএসই-র অধীন স্কুলগুলির পরীক্ষা পরিচালনা এবং নীতি বাস্তবায়নেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
সাম্প্রতিক সময়ে সিবিএসই-র নতুন অনস্ক্রিন মার্কিং ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। বহু পড়ুয়া অভিযোগ করেন, তাঁরা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম নম্বর পেয়েছেন। কেউ কেউ দাবি করেন, তাঁদের কাছে অন্য পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র চলে এসেছে। আবার অনেকের অভিযোগ, উত্তরপত্রের কিছু পৃষ্ঠা অনুপস্থিত ছিল বা সঠিকভাবে স্ক্যান হয়নি।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে উত্তরপত্র ঝাপসা অবস্থায় আপলোড করা হয়েছিল। কোথাও উত্তর মূল্যায়ন অসম্পূর্ণ ছিল, আবার কোথাও নম্বর গণনায় ভুল ধরা পড়ে। রিভ্যালুয়েশন প্রক্রিয়াতেও সার্ভার সমস্যা এবং পেমেন্ট গেটওয়ে বিভ্রাটের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, ১ জুন শিক্ষার্থীরা পোর্টালে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেটিকে ‘আন্ডার মেনটেন্যান্স’ অবস্থায় দেখতে পান।
মঙ্গলবার নতুন করে পোর্টাল চালু হলেও অভিযোগের শেষ হয়নি। বহু পড়ুয়া লগইন সমস্যা, পেমেন্ট ব্যর্থতা এবং ওয়েবসাইট ক্র্যাশের অভিযোগ করেন। জানা গিয়েছে, মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে ১৫ লক্ষেরও বেশি হিট আসে ওয়েবসাইটে। একইসঙ্গে এক লক্ষেরও বেশি অননুমোদিত অ্যাক্সেসের চেষ্টাও ধরা পড়ে, যা ডিনায়েল অফ সার্ভিস (DoS) ধরনের সাইবার আক্রমণের ইঙ্গিত দেয়।
তবে সিবিএসই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রমণের চেষ্টা সত্ত্বেও পোর্টাল সুরক্ষিত ও সচল রয়েছে। প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে এবং ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য সেশনের সময়সীমাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা আগের তুলনায় আরও সহজে পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন বলে দাবি করেছে বোর্ড।
এদিকে চেয়ারম্যান ও সচিবকে দায়িত্ব থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত এবং তদন্ত কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শিক্ষামহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে এবং অনস্ক্রিন মার্কিং বিতর্কের প্রকৃত কারণ কী, এখন সেদিকেই নজর সকলের।




















