খেলা – ভারতীয় ক্রিকেটে অবসরের মিছিলে নতুন সংযোজন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করলেন ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার কে এস ভরত। বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। দেশের জার্সি গায়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করতে পারাকে জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান বলে উল্লেখ করে তিনি বিসিসিআই, পরিবার, কোচ, সতীর্থ এবং সমর্থকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
ইনস্টাগ্রামে একাধিক টেক্সট স্লাইডের মাধ্যমে নিজের অবসরের ঘোষণা করেন ভরত। প্রথমেই তিনি লেখেন, “ধন্যবাদ বিসিসিআই।” এরপর তিনি জানান, গর্ব এবং কৃতজ্ঞতায় ভরা হৃদয় নিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছেন। তাঁর কথায়, দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে ধৈর্য, পরিশ্রম এবং মানসিক দৃঢ়তার একাধিক পরীক্ষা দিতে হলেও ভারতের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলার গর্ব প্রতিটি মুহূর্তকে সার্থক করে তুলেছে।
নিজের ক্রিকেটজীবনের পেছনে পরিবারের অবদানের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন অন্ধ্রপ্রদেশের এই ক্রিকেটার। তিনি জানান, গত দুই দশক ধরে তাঁদের পরিবারের প্রত্যেক সদস্য একই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য লড়াই করেছেন। বাবা-মা এবং বোনের অকুণ্ঠ সমর্থন, ভালোবাসা, শৃঙ্খলা ও ত্যাগের ফলেই তিনি এই পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছেন বলে উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কে এস ভরতের ক্যারিয়ার মূলত টেস্ট ফরম্যাটকেন্দ্রিক ছিল। ভারতের হয়ে তিনি মোট সাতটি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। সেই সাত ম্যাচে ২০.০৯ গড়ে ২২১ রান করেন, যেখানে তাঁর সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর ছিল ৪৪। উইকেটকিপার হিসেবে তিনি উইকেটের পেছনে ২১টি ক্যাচ এবং একটি স্টাম্পিংও করেছেন।
অবসরের বার্তায় শুধু ক্রিকেট বোর্ড বা পরিবার নয়, মাঠের পেছনে নিরলস পরিশ্রম করা মানুষদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভরত। অন্ধ্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এবং বিশাখাপত্তনম জেলা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনকে শৈশব থেকেই পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একই সঙ্গে মাঠকর্মীদের প্রশংসা করে বলেন, তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমই সবসময় ক্রিকেটারদের জন্য সেরা পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।
সতীর্থদের উদ্দেশেও আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন ভরত। তিনি বলেন, ক্রিকেটজীবনের অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত, সংগ্রাম ও সাফল্যের পেছনে সতীর্থদের অবদান অপরিসীম। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া নিজের স্বপ্নপূরণ সম্ভব হতো না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের ক্রিকেটজীবনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদেরও বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন ভরত। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা এবং রাহুল দ্রাবিড়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের সমর্থন ও নির্দেশনা তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। ২০২১ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে বিরাট কোহলির নেতৃত্বে আইপিএলে সুযোগ পাওয়াকে তিনি জীবনের অন্যতম বড় মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। সেই মরশুমে তাঁর পারফরম্যান্সই তাঁকে বৃহত্তর ক্রিকেটমহলে পরিচিতি এনে দেয়।
একইভাবে রোহিত শর্মার নেতৃত্বে টেস্ট অভিষেক হওয়ার অভিজ্ঞতাকে তিনি “অমূল্য” বলে বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া এ’ দল থেকে শুরু করে জাতীয় দল পর্যন্ত কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের অবদান এবং শৈশবের কোচ জে কৃষ্ণ রাওয়ের প্রশিক্ষণের কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন তিনি।
জাতীয় সংগীতের সময় মাঠে দাঁড়ানোর অনুভূতি এবং ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের সঙ্গে ড্রেসিংরুম ভাগ করে নেওয়ার স্মৃতি সারাজীবন বয়ে বেড়াবেন বলেও জানিয়েছেন ভরত। তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্দেশে তিনি বার্তা দিয়েছেন, বড় স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য নিরলস পরিশ্রম করতে হবে। তাঁর মতে, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা এবং দৃঢ় সংকল্প থাকলে যে কোনও স্বপ্নই বাস্তবে পরিণত করা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের মেন্টরিং, কোচিং এবং গাইডেন্স দেওয়ার মাধ্যমে খেলার প্রতি নিজের ঋণ শোধ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন কে এস ভরত।




















